শেয়ার বাজার

​দোয়ারাবাজারে থামছে না স্বজনদের বিলাপ
ধান কেড়ে নিল কৃষকের প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে ২০২৬

ধান কেড়ে নিল কৃষকের প্রাণ

​মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী::  মাঠের ধান রক্ষা করতে গিয়ে রক্তে রঞ্জিত হলো কৃষকের আঙিনা। ঘাম আর শ্রমে বোনা স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত যমদূত হয়ে দেখা দিল জহুর উদ্দিনের জীবনে। দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সুঁড়িগাঁও গ্রামে এখন বারুদজ্বলা স্তব্ধতা; যেখানে ফসলের মায়ার চেয়ে মানুষের আক্রোশ বড় হয়ে উঠেছে।

গত ​পহেলা মে শুক্রবার সকাল। ভরা বৈশাখে যখন সোনালি ধানে মাঠ ভরে ওঠার কথা, ঠিক তখন তুচ্ছ এক বাকবিতণ্ডায় নিভে গেল ৫ সন্তানের জনক ৫৫ বছর বয়সী জহুর উদ্দিনের জীবনপ্রদীপ। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিজের পরম মমতায় ফলানো ধানি জমিতে প্রতিপক্ষের গরু ঢোকার প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রতিবাদই কাল হলো। প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিজের আবাদি জমির বুকেই লুটিয়ে পড়েন এই নিরপরাধ কৃষক।

​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় যখন জহুর উদ্দিনের নিথর দেহ পড়ে ছিল, তখন স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে হাসপাতালের বাতাসও যেন ভারী হয়ে ওঠে। এক মুঠো ধানের অধিকার কি তবে জীবনের চেয়েও দামি? এই প্রশ্ন এখন সুঁড়িগাঁওয়ের প্রতিটি ঘরে। বিকেলের নিভে আসা আলোয় নিহতের বাড়িতে যে শোকের ছায়া নেমেছে, তা যেন কেবল এক ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং মানবিকতার এক চরম অপমৃত্যু।

উল্লেখ্য, পহেলা মে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সুঁড়িগাঁও গ্রামের মৃত হযরত আলীর পুত্র জহুর আলীর জমিতে গরু দিয়ে ধান খাওয়ানো নিয়ে একই গ্রামের কফিল উদ্দিন মাস্টারের পুত্র উজ্জ্বল ও ফয়সাল আহমদের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জহুর আলীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের বারান্দায় ভাইয়ের নিথর দেহের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের বোন ও ইউপি সদস্য হোসনে আরা বেগম। গগনবিদারী আর্তনাদে তিনি বলেন, 'এক মুঠো ধানের জন্য আমার ভাইকে এভাবে কুপিয়ে মারল ওরা? ভাই তো শুধু নিজের ফসলটুকু বাঁচাতে চেয়েছিল। আমরা এই রক্তপাতের বিচার চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই।' তার এই বুকফাটা হাহাকারে উপস্থিত সবার চোখ ভিজে ওঠে। এক মুঠো ধানের অধিকার কি তবে জীবনের চেয়েও দামি হয়ে উঠল? এই প্রশ্ন এখন সুঁড়িগাঁওয়ের প্রতিটি ঘরে।

নিহতের পুত্র আল আমিন কান্নায় ভেঙে পড়ে বাবার খুনীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চেয়েছেন। গরু দিয়ে ধান খাওয়াতে নিষেধ করাই তার পিতার কাল হয়ে দাঁড়ালো।

​দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

​আইনের খাতায় বিচার হবে, হয়তো সাজাও মিলবে। কিন্তু যে কৃষকের ছোঁয়ায় মাঠের ফসল কথা বলত, সেই চেনা মানুষটি আর কখনো ফিরবে না। হাওরের হাহাকার আর স্বজনদের অশ্রুজলে মিশে রইল কেবল একটিই দীর্ঘশ্বাস— ‘মাঠের ধান মাঠেই রইল, কেবল কৃষকই পরপারে পাড়ি জমালো।

আতঙ্কে কয়েক হাজার মানুষ
দোয়ারাবাজারে সুরমার গ্রাসে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে ইদনপুর-আজমপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ মে, ২০২৬

দোয়ারাবাজারে সুরমার গ্রাসে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে ইদনপুর-আজমপুর

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী

​সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা নদীর দক্ষিণ পাড়ে শুরু হয়েছে প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডব। রাক্ষুসী সুরমার করাল গ্রাসে মানচিত্র থেকে ক্রমশ বিলীন হতে চলেছে ইদনপুর ও আজমপুর সহ কয়েকটি গ্রাম। প্রতিদিন নদীর পেটে যাচ্ছে ফসলি জমি, ভিটেমাটি আর স্মৃতিবিজড়িত ঘরবাড়ি।

একদিকে সুরমার ভাঙন, অন্যদিকে নোয়াগাঁও খালের তীব্র ভাঙন— এই দুইয়ের সাঁড়াশি আক্রমণে এখন দিশেহারা কয়েক হাজার মানুষ। আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর।

​সরেজমিনে দেখা যায়, সুরমা নদীর পাড়জুড়ে শুধু দীর্ঘশ্বাস। চোখের পলকেই নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের সারা জীবনের সম্বল। আবাদি জমি নদী গিলে ফেলায় প্রান্তিক কৃষকরা এখন ভূমিহীন হওয়ার পথে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা আসার আগেই ভাঙন তীব্র হয়, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান আজও মেলেনি।

​ইদনপুর গ্রামের মাস্টার নজির উদ্দিন ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেন, 'আমাদের চোখের সামনে দুটি গ্রাম ছোট হয়ে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইদনপুর ও আজমপুর গ্রামের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। '

​একই আর্তনাদ শোনা গেল আজমপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার কণ্ঠে। তিনি বলেন, 'নদী তো শুধু মাটি নেয় না, আমাদের স্বপ্নগুলোও নিয়ে যাচ্ছে। বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়ার মতো জায়গাও এখন আর অবশিষ্ট নেই।'

​শুধু সুরমা নদী নয়, মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে নোয়াগাঁও খালের ভাঙন। এই খালের ভাঙনে ইদনপুরসহ দক্ষিণ পাড়ের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ড্রেজার দিয়ে এই খালে মাটি ভরাট করা এবং সুরমা নদীর পাড় রক্ষায় পরিকল্পিত ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।

​ইদনপুরের বাসিন্দা এখলাছুর রহমান রাজু ক্ষোভ ও আর্তি নিয়ে জানান নোয়াগাঁও খালের ভাঙন আমাদের আরও বেশি অসহায় করে তুলেছে। নদী আর খালের মাঝখানে আমরা যেন এক চিলতে দ্বীপে বন্দি হয়ে আছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।' 

​এলাকাবাসী তাদের এই মানবিক বিপর্যয় থেকে বাঁচতে ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের সংসদ সদস্য ও জননেতা কলিমউদ্দিন আহমেদ মিলনের দ্রুত সুদৃষ্টি ও ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একইসাথে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) সাদ্দাম হোসেন জানান,

​'আমরা ভাঙনের তীব্রতা সম্পর্কে অবগত আছি। ইদনপুর ও আজমপুর এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি এবং নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ ও নির্দেশনা পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।'

​তবে সরকারি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত কাজ শুরু না হলে, নদীপাড়ের এই প্রাচীন জনপদগুলো কেবল ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। দোয়ারাবাজারের এই বিপন্ন মানুষের এখন একটাই চাওয়া— ভিটেমাটি আঁকড়ে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা।


কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র নেতৃত্বে সাজ্জাদ-মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ মার্চ, ২০২৪

কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র নেতৃত্বে সাজ্জাদ-মোশাররফ

ঢাকা, ২ মার্চ, ২০২৪ (বাসস) : কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা (সিজেএফডি)’র দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা এবং নির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’র ডেপুটি চিফ রিপোর্টার মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক দৈনিক আমাদের অর্থনীতির বিশেষ প্রতিনিধি এম. মোশাররফ হোসাইন।

২১ সদস্যের কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল অদুদ ও এম. এস. দোহা, যুগ্ম-সম্পাদক সালাহ উদ্দিন জসিম ও কামরুজ্জামান বাবলু, অর্থ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন দরবেশ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মনির আহমাদ জারিফ, প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক এ এফ এম রাসেল পাটোয়ারী, ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান রতন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জহির আলম সিকদার, তথ্য-প্রযুক্তি সম্পাদক আহমেদ আজম, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ সম্পাদক ফারজানা আফরিন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক বদরুল আলম মজুমদার, ইভেন্ট-আপ্যায়ন সম্পাদক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বেলাল এবং নির্বাহী সদস্য দিদারুল আলম দিদার, সায়ীদ আবদুল মালিক, সাঈদ আহমদ খান, মোহাম্মদ মাসুদ ও কমল চৌধুরী।

দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্ম অধিবেশন ও ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা হোসাইন, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব রশিদ, মোহাম্মদ আবু তাহের, মো. শরীফুল ইসলাম এবং ফারুক খান।

এর আগে সকাল ১০টায় সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি মো. শরীফুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি, সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন এমপি, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’র সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক গাজিউল হাসান খান, প্রেস ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (পিআইবি)’র মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক মোস্তফা হোসেইন, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাসিমা খান মন্টি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুর রহমান খোকন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাসস'র সিনিয়র রিপোর্টার দিদারুল আলম, সংগঠনের সিনিয়র সদস্য আ. ন. ম. কুদরাত-ই-খোদা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ ইসহাক খান এবং আবু তাহের, বার্তাবেলা.কম এর সম্পাদক ও প্রকাশক মহিন উদ্দিন স্বপন।

 প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, কুমিল্লার যে ঐতিহ্য সবাইকে তা ধারণ করে এগুতে হবে। তবে কাজের ক্ষেত্রে যোগ্যতার সঙ্গে লড়াই চলে না। কুমিল্লাকে প্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সবাইকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। তরুণ প্রজন্ম যাতে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠে সে উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবর্তনকে ভয় পেলে চলবে না। আপনারা উন্নত কুমিল্লা চান। উন্নত বলতে বুঝায় জ্ঞানে-বিজ্ঞানে প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ এবং দারিদ্র্য, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত। আপনারা সাংবাদিকরা এর জন্য অবদান রাখবেন, বিশ্বাস করি। আগামী দিনের ইতিবাচক অগ্রযাত্রায় শামিল হবেন। অনেকে সমস্যার কথা বলেছেন, এগুলোর সমাধানে আপনারা একটি কর্মপরিকল্পনা করেন। আমি সর্বতোভাবে সহায়তা করবো।

সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব বলেন, অনেকে বলেন রাজনীতিবিদরাই সমাজ সেবা করে। শুধু রাজনীতিবিদরা নয়, সবাই সমাজসেবা করে। আমরা স্ব-স্ব জায়গা থেকে নিজ দায়িত্বটুকু পালন করলেই সমাজসেবা হয়ে যায়। এসময় তিনি কুমিল্লাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাংবাদিকসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। 

 বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, সাংবাদিকদের কুমিল্লার ইতিহাস ঐতিহ্য ধারণ করতে হবে। কুমিল্লার নবাব ফয়জুন্নেছা বাংলাদেশের শিক্ষার বিকাশে পথপ্রদর্শক, তার মূল্যায়নে ভূমিকা রাখতে হবে। তার বাড়ির স্মৃতি সংরক্ষণ করতে হবে। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, শচীন দেব বর্মন ও উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কে স্মরণ করতে হবে। শান্তি ও সুনীতিকে সামনে আনতে হবে। একটা মাত্র জেলা যেখানে মুক্তিযুদ্ধের তিনটি সেক্টর ছিল।

তিনি বলেন, আমি জেলা কোটা বিলুপ্তির পক্ষে, কুমিল্লা নামেই বিভাগের পক্ষে। আমরা চেষ্টা করলে কুমিল্লাকে আরও বিকশিত করতে পারি। ব্রান্ডিং করতে পারি।


আমরাও একদিন চাঁদে যাবো: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৪

আমরাও একদিন চাঁদে যাবো: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ একদিন চাঁদে যাবে, এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন প্রজন্মকে সেভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘একসময় আমাদের চাঁদেও যেতে হবে, চাঁদও জয় করতে হবে। সেই বিজ্ঞানসম্পন্ন জ্ঞানটা যেন আমাদের শিশুরা এখন থেকে পায়, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৩’ এবং ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৪’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মহাকাশ গবেষণা এবং এ বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি, অ্যারোস্পেস এবং অ্যাভিয়েশন ইউনিভার্সিটিও করেছি। অ্যারোনটিক্যাল সেন্টারও করে দিয়েছি। গবেষণা এবং সেই সঙ্গে আমাদের শিশুদের এখন থেকে সেভাবে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’

শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের আন্তরিকতা ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবসময় আমরা একটা সুষম, জনকল্যাণমুখী, সর্বজনীন, মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা করতে চাই। আর শুধু ওই কেতাবই পড়ে না, ছোট ছোট শিশুদের ভেতরে যে মেধা-মনন সেগুলোও তো আমাদের বের করে আনতে হবে। তাদের সুযোগ দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের ভেতরে যে একটা কিছু করার ক্ষমতা আছে, সেটা যাতে বিকশিত হয় সেই সুযোগটা সৃষ্টি করা দরকার। আর সেদিকে লক্ষ রেখেই কিন্তু শিক্ষা কারিকুলাম-আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানের মধ্যে নিয়ে এসে স্কুলে কম্পিউটার করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব করা। প্রথমে এটা মাধ্যমিক থেকে শুরু করেছিলাম, এখন আমাদের লক্ষ্য প্রাইমারি থেকেই শুরু করে দেবো।’

দুই বছরের জন্য প্রি-প্রাইমারি চালুর কথা জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘প্রি-প্রাইমারি আমরা চালু করেছি। প্রি-প্রাইমারি এক বছরের জন্য, এখন আমরা সেটা দুই বছরের জন্য করতে চাচ্ছি। শুধু পড়াশোনা না, আসবে-যাবে, একসঙ্গে বসবে, বন্ধুদের নিয়ে খেলাধুলা করবে, ওই খেলাধুলার মধ্য থেকেই তাদের ভেতরে যে সুপ্ত মেধাটা আছে, সেই মেধাটা কীভাবে বিকশিত করা যায়, সেই ধরনের ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। তাহলেই কিন্তু এই ছেলে-মেয়ে, এরাই তো ভবিষ্যৎ আমাদের। সেভাবে আমরা তাদের তৈরি করে দেবো।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকের যুগ হচ্ছে প্রযুক্তির, কাজেই কম্পিউটার শেখা, আমরা যেমন ল্যাব করে দিচ্ছি, ইনকিউবেশন সেন্টারও করে দিচ্ছি। সেভাবে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনগোষ্ঠী আমরা গড়ে তুলতে চাই। সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তাহলে আমাদের স্মার্ট সিটিজেন হবে। স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সমাজ। অর্থাৎ প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি। এই ছোটবেলা থেকে, শিশুকাল থেকে ধীরে ধীরে তারা গড়ে উঠবে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। দেশের উন্নয়নে তাদের চিন্তা-ভাবনা, তারা আরও নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তি দিয়েই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সেটাই আমি চাই।’

আজকের শিশুরা আগামী দিনের কর্ণধার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক। যারা একদিন এ দেশের কর্ণধার হবে। এই শিশুদের মধ্য থেকেই একদিন কেউ প্রধানমন্ত্রী হবে, মন্ত্রী হবে, বড় বড় সরকারি চাকরি করবে, বৈজ্ঞানিক হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনে স্মার্ট বাংলাদেশের পরিচালক হিসেবে পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, সেটাই আমাদের আশা। ২০৪১ সালের মধ্যে হবে স্মার্ট বাংলাদেশ এবং আর ২১০০ সালে ডেল্টা প্ল্যানও করে দিয়েছি। যেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারা সুন্দর জীবন পায়, সেটাই আমার লক্ষ্য।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষাদীক্ষায়, সংস্কৃতি চর্চায়, খেলাধুলা, সবদিকে যেন উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। সেটাই আমরা করতে চাই। তার জন্য যা যা প্রয়োজন সব কিছু আমরা করবো।’

এ বছর ১৮ ক্যাটাগরিতে মোট ১২৬ শিক্ষার্থী, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৩’ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৫৪ শিক্ষার্থী, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব ফরিদ আহমেদ।