শেয়ার বাজার

দুর্নীতির অভিযোগে রুয়েটের সাবেক উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মার্চ ২০২৪

দুর্নীতির অভিযোগে রুয়েটের সাবেক উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের নামে মামলা

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েটে) অবৈধ পন্থায় নিয়োগ দেওয়া ১৩৫ জনের মধ্যে ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক উপাচার্য ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা  হয়েছে। 

২৭ মার্চ (বুধবার) দুর্নীতি দমন কমিশনের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ে উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। (মামলা নং ৩)

দুর্নীতি দমন কমিশনের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয় সুত্রটি নিশ্চিত করেন।  

মামলায় রুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম সেখ ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সেলিম হোসেনকে আসামী করা হয়। 

মামলার বাদি আমিনুল ইসলাম বলেন, অনুসন্ধান শেষে রুয়েটের সাবেক উপাচার্য রফিকুল ইসলাম সেখ ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের মঞ্জুরি পাওয়া গেলে আজ ২৭ মার্চ তা রুজু হয়।। ১৩৫ জনের নিয়োগে কম-বেশি অনিয়ম হয়েছে। তবে তার মধ্যে ১৭ জনের নিয়োগ নিয়ে দুদক মামলা করলো।

এর আগে, ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই চার বছরের জন্য রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ পান ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স বিভাগের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম সেখ। এরপর বিভিন্ন সময়ে তিনি ১৩৫ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ দেন।

২০২১ সালের ৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় এসব নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাবেক উপাচার্য নিয়োগ বিধি লঙ্ঘন করে নিজের কয়েকজন স্বজনকেও নিয়োগ দেন। পরে এসব নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসিতে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসির একটি তদন্ত কমিটি নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগগুলি তদন্ত করে। তদন্তে অধিকাংশ অভিযোগের সত্যতা মিলে। ইউজিসি থেকে তদন্ত প্রতিবেদন অধিকতর তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়।

এদিকে, ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে চিঠি দিয়ে রুয়েটে বিতর্কিতভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৩৫ জনের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও এসব নিয়োগ অদ্যাবধি বাতিল হয়নি। যে ১৩৫ জনের নিয়োগে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সেগুলির মধ্যে ৩ জন শিক্ষকসহ ১১৮ জনের নিয়োগের বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধানে বাদ দেওয়া হয়েছে।

রুয়েটের বিধি-বিধান অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগসহ কতিপয় নিয়োগে সংক্রান্ত বিষয়টি ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেওয়া হয়নি। তবে ১৭ জনের নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে বলে অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে। এই ১৭ জনের মধ্যে সাবেক উপাচার্যের আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন। যাদের কেউ কেউ লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলেও তাদেরকে মৌখিক পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে রুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম সেখ গণমাধ্যমকে বলেন, মামলা হলে আইনগতভাবে তা মোকাবিলা করা হবে। এ বিষয়ে তার কিছু বলার নেই বলে জানান।

মা কবরে বাবা কারাগারে: দরিদ্র নানা-নানির কাঁধের বোঝা ৬ শিশু

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল, ২০২৬

মা কবরে বাবা কারাগারে: দরিদ্র নানা-নানির কাঁধের বোঝা ৬ শিশু

ফাঁকা বাড়ি, নেই কোনো বেষ্টনী। উঠোনের দুইপাশে দুইটি চুলা এখনো পড়ে আছে। ক’দিন থেকে বাড়িতে সুনসান নীরবতা। সন্ধ্যায় বাড়িতে বাতি জ্বালানোর মতো কেউ নেই। ঘরে ঝোলানো তালা।

গত বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে এই বাড়িতে স্বামীর মারধরে মারা যান ছয় সন্তানের জননী মরজিনা খাতুন। ঘটনার পর স্থানীয়রা স্বামী আব্দুল মকিমকে (৪০) আটক করে পুলিশে দেয়।

ঘটনার পর থেকে অবুঝ ছয় শিশু এখন দরিদ্র নানা-নানির আশ্রয়ে রয়েছে। নাতি-নাতনিদের নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তারা। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে নওগাঁর পোরশা উপজেলার শীতলি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের দিনমজুর আব্দুল মকিমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে পাশের নীতপুর গ্রামের মশিউর রহমানের মেয়ে মরজিনা খাতুন রুপসির বিয়ে হয়। দরিদ্র এ দম্পতির ছয় সন্তান। ছেলে সন্তানের আশায় একের পর এক চার মেয়ে। পঞ্চমবার ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এরপর আরও এক মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। তাদের নিজেদের আধাপাকা ছোট দুই কক্ষের ঘর ছাড়া কোনো সম্পত্তি নেই।

মকিম কৃষিকাজ এবং মরজিনা প্রতিবেশীদের গরুর দুধ দহন ও বিক্রি করে টেনেটুনে কোনো রকম সংসার চলত। এছাড়া প্রতিবেশীরাও বিভিন্নভাবে তাদের সাহায্য ও সহযোগিতা করত। তাদের বাড়ি জেলার প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী শীতলি ডাঙ্গাপাড়ায়।

সবার বড় মেয়ে মাহিয়া আকতার মিমি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে৷ দ্বিতীয় মেয়ে মারিয়া আকতার চতুর্থ শ্রেণি, তৃতীয় মেয়ে শ্রাবনি আক্তার তৃতীয় শ্রেণি ও চতুর্থ মেয়ে জান্নাতুন শিশু শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে৷ এছাড়া পাঁচ নম্বর সন্তান রমজান আলীর বয়স ৪ বছর এবং ছয় নম্বর সন্তান জাইদাতুনের বয়স ১১ মাস।

ঘটনার দিন দুপুরে গমের ক্ষেতে কাজ করে স্বামী মকিম খাবারের জন্য বাড়ি আসেন। মকিম ফ্রিজ থেকে একটি ডিম বের করে ভাঙেন। এই ডিম ভাঙাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষোভের বসে মকিম প্রেশার কুকার দিয়ে মরজিনার মাথা ও মুখমন্ডলে আঘাত করেন। এতে রক্তাক্ত জখম হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন মরজিনা। বাচ্চাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে স্থানীয়রা মকিমকে আটক করে গাছে বেঁধে রাখে। পরে থানা পুলিশের কাছে তাকে সোপর্দ করা হয়। ঘটনার পর নিহতের ছয় সন্তান তার বাবা-মার কাছে আশ্রয় নেয়। মায়ের অনুপস্থিতিতে সন্তানদের কান্না যেন আর থামছেই না।

নিহত মরজিনার প্রতিবেশী আলেয়া বেগম বলেন, আব্দুল মকিমের মাথায় একটু সমস্যা আছে। তারপরও সে পরিশ্রম করে। আর মরজিনা খুবই পরিশ্রমী একজন মেয়ে। তার কারণে সংসারটা টিকে ছিল। আমরা প্রতিবেশী সবাই তাদের সহযোগিতা করতাম। মেয়ে সন্তান জন্ম হওয়ার কারণে মরজিনার গালে জখম করেছিল। অনেক চিকিৎসার পর সুস্থ হয়। ছেলে মেয়ে এখন নানার বাড়িতে থাকে। কিন্তু তাদের এখন কী হবে সেটা নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তায় আছে।

দরিদ্র বৃদ্ধ মশিউর রহমান ও তার স্ত্রী তাদের ছোট ছেলের কাছে থাকা-খাওয়া করেন। তার ওপর আরও ছয় নাতি-নাতনি যোগ হয়েছে। তাদের নিয়ে এখন দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন নানা-নানি।

শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন নানি শওকত আরা।

তিনি বলেন- পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে। সবাই শিশু। তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি কীভাবে তাদের মানুষ করবো।

নানা মশিউর রহমান বলেন, আমরা গরিব মানুষ। বয়স হয়েছে। কোনো কাজকাম করতে পারি না। কষ্ট করে বুড়াবুড়ি ছোট ছেলের মধ্যে খাই। কোনো রকম দিন পার হয়। তার ওপর আরও ছয় সদস্য আমার ঘাড়ে চেপেছে। এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই চিন্তায় আছি কীভাবে তাদের বড় করবো। সমাজের অনেক বিত্তবান মানুষ আছেন, তারা যদি একটু সুনজর দিতো নাতি-নাতনিদের পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করতে পারতাম।

পোরশার নীতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম বলেন, বৃদ্ধ মশিউর রহমান দরিদ্র মানুষ। তারা স্বামী-স্ত্রী ছোট ছেলের মধ্যে থাকে। তার ওপর আরও ছয় শিশুর দায়িত্ব পড়েছে মশিউরের কাঁধে। এটাতো অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা এলে তাদের সহযোগিতা করা হবে। কোনো পরিবারে খুন-জখম হোক এটা কেউ চায় না। এসব বিষয়ে সমাজে আরও সচেতনতা বাড়াতে হবে।


কিশোর গ্যাং
দুইদিনে গ্রেফতার ৭৫ জামিনে সুপারিশ করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ মার্চ, ২০২৪

দুইদিনে গ্রেফতার ৭৫ জামিনে সুপারিশ করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

রাজধানীর তেজগাঁও, গুলশান, উত্তরা ও মতিঝিল এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে গত দুদিনে ৭৫ কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি বলছে, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে বর্তমানে ধনীর সন্তানরাও জড়িয়ে যাচ্ছে। তারা মারামারিসহ হত্যার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। কিশোর গ্যাংবিরোধী ধারাবাহিক অভিযান চলবে। তাদের জামিনের বিষয়ে কেউ সুপারিশ নিয়ে এলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (৬ মার্চ) রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, দুদিনে ৭৫ কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্বের কারণে সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। কিশোর গ্যাং সদস্যরা ছিনতাই, ইভটিজিং, হুমকি দেওয়া, স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের ভয় দেখানো ও বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা পরিস্থিত সৃষ্টি করে। এ কাজগুলো তারা দলবদ্ধ হয়ে করে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নানা নামে প্রভাব বিস্তার করে আসছে তারা।

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়োং স্টার, বিগবস, ডিস্কো বয়েজ, বন্ধুমহল, শীল বিষু গ্যাং, পারভেজ গ্রুপ, রুস্তম গ্রুপ, ইয়োং স্টার গ্রুপ, নাইনএমএম গ্রুপ, নাইন স্টার গ্রুপ, রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে উজ্জ্বল গ্রুপের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

কিশোর গ্যাং গ্রুপগুলো মাদক, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ করে আসছে। তাদের কিছু বড় ভাইয়ের ছত্রচ্ছায়ায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। এমনকি তারা চুরি-ছিনতাই করে আসছে। এসব কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গত দুই বছরে ৩৪ জন কিশোর নিহত হয়েছে।


হারুন অর রশীদ আরও বলেন, একসময় মনে করতাম ভাসমান ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানরা কিশোর গ্যাং চক্রে জড়িত হচ্ছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যবিত্ত, ধনীদের আলালের ঘরে দুলালরাও কিশোর গ্যাং চক্রে জড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের পোশাক, চুলের কাটিং চলাফেরা সবই ভীতিকর। এসব ধনীর সন্তানরা প্রথমে মাদকসেবন, পরে মাদক বিক্রিতেও জড়িয়ে যাচ্ছে। এছাড়া তারা এলাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক বড় ভাই আবার কখনো কাউন্সিলরদের নিয়ন্ত্রণে থেকে তারা হত্যার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলরদের ছত্রচ্ছায়ার অভিযোগ রয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে দুদিন ৭৫ কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সবাই কিশোর গ্যাং চক্রে জড়িত থাকার কথা আমাদের কাছে স্বীকার করেছে।

কিশোর গ্যাং সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ উল্লেখ করে ডিবিপ্রধান বলেন, এখন যে সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে। এসব কিশোর স্কুলে পড়ালেখা বাদ দিয়ে মাদকসেবনের মতো উশৃঙ্খল জীবন-যাপন করছে। গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করছে। তবে আমি মনে করি অভিভাকদের উচিত তার সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মিশে তার খোঁজ রাখা। পাশাপাশি মা-বাবার উচিত সন্তানদের সময় দেওয়া। গ্রেফতার করে কিশোর গ্যাং দমন করা যাবে না। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে।

কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয় দেওয়া বড় ভাইদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অনেক বড় ভাইয়ের নাম পেয়েছি। এসব নাম তদন্ত করে দেখবো কারা কারা কিশোর গ্যাং সদস্যদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। তবে আমি মনে করি এসব কিশোর গ্যাংয়ের নানা অপরাধ করার তথ্যতো কাউন্সিলররা জানেন।

হারুন অর রশীদ বলেন, কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা কিন্তু বড় বা রাজনৈতিক নেতাদের পরিচয় দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করে। মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধ করে। কিশোর গ্যাংয়ের এমন দৌরাত্ম্যের কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও পরিবারের সদস্যদের কিশোর গ্যাং দমনে এগিয়ে আসতে হবে। কিশোর গ্যাংবিরোধী ধারাবাহিক অভিযান চলবে। এ বিষয়ে কেউ সুপারিশ নিয়ে এলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তারেক রহমান আগামীর সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী, বিবিসি-রয়টার্সের প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

তারেক রহমান আগামীর সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী, বিবিসি-রয়টার্সের প্রতিবেদন

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশে ফিরেছেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে তার এই প্রত্যাবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে বিদেশি গণমাধ্যমগুলো। প্রবাশালী সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও রয়টার্স তাকে বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নেতা তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের আগে তার এই প্রত্যাবর্তনকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান প্রভাবশালী জিয়া পরিবারের অন্যতম সদস্য। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে এবং বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শীর্ষ নেতা।

২০০৮ সাল থেকে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাস করছিলেন। নতুন বছরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

নির্বাচনে বিএনপি যদি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে জয়ী হয়, তাহলে তারেক রহমানই দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।

এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই প্রত্যাবর্তনে সমর্থকরা নতুন করে চাঙ্গা হবে বলে আশা করছে দল। কারণ তাকে অন্যতম সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনের আরও বলা হয়, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনা স্থল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে লাখো নেতাকর্মী জড়ো হন। তারা দলীয় পতাকা হাতে স্লোগান দেন এবং ব্যানার, ফেস্টুন ও ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতারা ঢাকার বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানান।