শেয়ার বাজার

হাঁটু মুড়ে বসে কেন প্রোপোজ করা হয়?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৪

হাঁটু মুড়ে বসে কেন প্রোপোজ করা হয়?

আর কদিন পরেই ভালোবাসার মাস ফেব্রুয়ারি। রোজ ডে দিয়ে শুরু হওয়া ভ্যালেন্টাইনস উইকের দ্বিতীয় দিন। ৮ ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বে প্রপোজ ডে হিসেবে পালিত হয়।

এ দিনে প্রেমে পড়া প্রতিটি ব্যক্তি তার হৃদয়ের কথা ও অনুভূতি প্রকাশ করেন সঙ্গীর কাছে। এমনকি প্রিয়জনের পক্ষ থেকেও সম্মতি আশা করেন।

প্রায়শই ছবিতে প্রোপোজের সময় হাঁটু মুড়ে বসে প্রেমিকাকে প্রেম বা বিয়ের প্রস্তাব দিতে দেখেছেন।

তবে এটি কিন্তু শুধুই রোমান্টিক অঙ্গভঙ্গি নয়, এর পেছনেও আছে ইতিহাস। চলুন হাঁটু মুড়ে প্রোপোজের রহস্য জেনে নেওয়া যাক-

হাঁটু মুড়ে বসে প্রপোজ করা নাইটহুড অর্থাৎ মধ্যযুগের ঐতিহ্য। তখন বিবাহ ও ধর্ম একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিল। তখন পুরুষরা প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতেন নতজানু হয়ে।

একজন ব্যক্তির হাঁটু মুড়ে বসে প্রোপোজ করা প্রার্থনা, সমর্পণ, সম্মান ও ভালোবাসার সঙ্গে জড়িত।

আরও পড়ুন: প্রিয়জনকে চুমু দিলে কী কী হয় জানলে অবাক হবেন

এমন পরিস্থিতিতে যদি কোনো ব্যক্তি হাঁটু মুড়ে বসে আপনাকে প্রস্তাব দেয়, তাহলে এটি কেবল ভালবাসা নয়, আপনার গুরুত্বও প্রকাশ করে।

তবে হাঁটু মুড়ে বসলেই হবে না, প্রোপোজের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক শব্দ নির্বাচন ও অনুভূতি প্রকাশ করা।

অনেকে লাখ টাকা খরচ করে তাদের সঙ্গীকে কোনো দামি জায়গায় নিয়ে প্রোপোজ করেন। আবার অনেকে আছেন প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো স্মৃতি দিয়ে তাদেরকে প্রোপোজ করেন।

আজকের দিনে প্রিয়জনকে প্রেমের বা বিয়ের প্রস্তাব দিতে অবশ্যই এ বিষয়ে খেয়াল রাখুন।

বন্ধুত্ব হতে পারে ক্যারিয়ারের হাতিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ জুন, ২০২৬

বন্ধুত্ব হতে পারে ক্যারিয়ারের হাতিয়ার

বন্ধুত্ব হতে পারে ক্যারিয়ারের হাতিয়ার 

# বকুল হাসান খাঁন #


বন্ধু। শব্দটা সত্যিই কেমন যেন আপন মনে হয়। মনে হয় কাছের কেউ। যার পাশাপাশি পথ চলে কাটিয়ে দেয়া যায় বছরের পর বছর। বন্ধু ছাড়া স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কেউ পার হয়নি একথা সবাই জানে। কাছের হোক বা দূরের হোক, বন্ধু বন্ধুই। চাকরি ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অতএব, চাকরিতে বন্ধুর ভূমিকা থাকবে না- তা কি হয়? চোখ কান খোলা রেখে সতর্কতার সাথে বন্ধু নির্বাচন করলে সে বন্ধুটি হয়ে উঠতে পারে আপনার আস্থা ও নির্ভরশীলতার প্রতীক। 

চাকরিতে সমমনা বন্ধু

ক্যারিয়ারে আপনার মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আর আনুগত্যের বন্ধুত্ব খুবই প্রয়োজন। পড়াশোনা শেষ হয়েছে সেই কবে। বহু প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিয়েও চাকরি হচ্ছে না। তাই বলে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। কারণ স্কুল, কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রচুর বন্ধু-বান্ধবী ছিল আপনার। আর পাড়া বা মহল­ায় বাল্যবন্ধুরা তো আছেই। তাদের খোঁজ নিতে দোষ কি। তারা অনেকেই হয় তো বড় বড় প্রতিষ্ঠানে আছেন। দীর্ঘদিন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ নেই বলে দ্বিধা করার কোন কারণ নেই। এক্ষুণি হাতে তুলে নেয়া যাক কোনটা। কথা হোক, হোক দেখা। এটা কর্পোরেট যুগ। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো এখন আর শুধু সিভি দেখে না। ইন্টারভিউয়ের চেয়ে যোগাযোগটাই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মামা চাচার যোগাযোগ না। এটি জব নেটওয়ার্কিং সিস্টেম। যেখানে সুপারিশের জন্য কাছের বন্ধুটিই যথেষ্ট। কোম্পানিগুলো এখন একজন দক্ষ কর্মচারীর মাধ্যমে আরেকজনকে নেয়। অতএব, ঘনিষ্ট বন্ধুটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। বর্তমান সময়ে চাকরি খোঁজার আগে বন্ধু খোঁজা প্রয়োজন। তাহলেই পথটা সহজ হয়ে যায়। অনেক সময় বন্ধু হয়তো সরাসরি কিছু করতে পারে না। অন্য কাউকে অনুরোধ করে। তাতে কি? কাজটা তো হলো। দি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ প্রকাশিত এক জরিপে পাওয়া গেছে মজার তথ্য। চাকরি খুঁজছেন, এমন ৩৫১ জনের উপর চালানো হয়েছিল জরিপটা। তাতে দেখা গেছে শতকরা ৬০ ভাগই চাকরি পেয়েছেন তাদের বন্ধু, সাবেক সহপাঠী বা সহকর্মীর মাধ্যমে। ১৭ ভাগ এজেন্সির মাধ্যমে। আর মাত্র ১৫ ভাগ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে, ইন্টারভিউ দিয়ে। ভয় পাবার কোন কারণ নেই। সবারই তো অনেক বন্ধু বান্ধব আছে। না-ই হলো চাকরি বাকরি। সমমনা বন্ধুদের সঙ্গে বসুন। সময় দিন তাদেরকে। অনেকেই হয়তো স্বাধীনভাবে ব্যবসা করছেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করুন। সম্ভব না হলে বেকার বন্ধুরা মিলেই একটা উদ্যোগ নিন। তবে যাই করা হোক না কেন, অবশ্যই সবাই মিলে চিন্তা ও আলোচনা করে করতে হবে। বন্ধুরা মিলে গড়ে তুলছে, এমন প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট অনেক ভাল। কারণ একজন আরেকজনের পাশে থাকছে সব সময়। সে জন্য সাফল্যও বেশি। মানসিকতাটাই আসেলে জরুরি। অন্তত স্বধীন ব্যবসার ক্ষেত্রে। বুটিকের দোকান, ফাস্টফুড, বায়িং হাউস, ফ্যাশন হাউস থেকে শুরু করে এক্সিভিশন পর্যন্ত আজকাল বন্ধুরা মিলে করছে। অতএব, আপনাকেও প্রচেষ্টা চালাতে হবে অন্তত ভালোভাবে জীবন যাপনের জন্যে ভাল কিছু তো করতে হবে। 

বন্ধু যখন কলিগ

বন্ধুটি যদি আপনার কলিগ হয়, তাহলে সে নানাভাবে উপকার আসতে পারে। অনেক এক্সিকিউটিভের মতে, কাজের জায়গাটি হতে হবে পরিবারের মতো। অর্থাৎ যেখানে প্রত্যেকে প্রত্যেকের প্রতি যতœশীল হবে। বন্ধুত্বপূর্ণ হবে। এতে কাজের গতি বাড়ে। আনন্দ আসে। কাজ বেশি হয়। উৎপাদন ও টিমওয়ার্কে এর বিরাট প্রভাব পড়ে। সব কিছু মিলিয়েই গড়ে ওঠে একটি কর্পোরেট ফ্যামিলি। কোম্পানির উন্নতির মূলেই ফ্রেন্ডশিপ থিয়োরি। তবে কর্মক্ষেত্রে বন্ধুত্ব খুব গভীর না হওয়াই ভাল। একটা না দেখা দূরত্ব মেনে চলতেই হবে। ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোকে কাজের জায়গায় টেনে না আনাই ভাল। আপনার স্ত্রীও আপনার কলিগ হতে পারে। তবে কাজের ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়তে দেয়া যাবে না। কর্মক্ষেত্রে বন্ধুত্ব আর ব্যক্তিজীবনে বন্ধুত্ব গুলিয়ে ফেলা যাবে না। তাহলে পদে পদে শুধু ঝামেলাই দেখা দেবে। 

বন্ধু ঃ জুনিয়র না সিনিয়র   

জুনিয়র বন্ধুরা কখনো কখনো বিপদের কারণ হতে পারে। একটু অসাবধানতার দরুন আপনাকে পড়তে হতে পারে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। সিনিয়ররাও কিন্তু কম যান না। এসব ম্যানেজ করতে হবে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী। অফিস কালচার এবং পলিটিক্সটা বুঝতে হবে। মনে রাখতে হবে কর্পোরেট জগৎ খুবই কন্টকাকীর্ণ। এখানে বন্ধুই পতনের মূল কারণ হতে পারে। অতএব, কর্মক্ষেত্রে এমন বন্ধু চাই, যে সত্যিই বন্ধু। যে আপনার কল্যাণে এগিয়ে আসবে। 

শিক্ষিত বন্ধু

হয়তো সবার সব সময় যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয় না। তবু যদ্দূর সম্ভব সব বন্ধুর সঙ্গেই যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করুন। শুধু চাকরিজীবী বন্ধুই নয়, ব্যবসায়ী, অভিনেতা-অভিনেত্রী, শিল্পী, লেখক যে কোন বন্ধুই উপকারে আসতে পারে। বন্ধু বদলে দিতে পারে আপনার জীবন। তাই তাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়াটা বোকামি। এ ছাড়া নিজেকে গুটিয়ে রেখে লাভ কি? একটু কান পাতলেই শুনতে পাবেন অনেক বন্ধুর ডাক। নিজেকে বড় মনে করে বন্ধুর ডাকের অপেক্ষায় থাকা উচিত নয়। বড়ত্ব ভুলে গিয়ে নিজেই ডাকুন তাদেরকে। নিজের হাতটা আগে বাড়িয়ে দিলে বন্ধু এসে পাশে দাঁড়াবেই। সুখ দুঃখের সাথী হবেই হবে। আর তখন বিবর্ন মুহূর্তগুলোই তার স্পর্শে হয়ে উঠবে রঙিন। সামাজিক শব্দে যাকে বলে শিক্ষিত সেটা না হতেন। কারণ সাধারণ শিক্ষিত না হলে আপনার চাকরি বা ব্যবসা করা হত না। চাকরি না হলে ছবি দেখা, গান শোনা কিংবা বেড়াতে যাবার টাকা আসত না। খেলাধুলার সরঞ্জাম কিংবা বই ম্যাগাজিন কেনার টাকাইবা আসত কোত্থেকে। নিত্য দরকারি জিনিসপত্র, খাবার, জামা-কাপড়, ওষুধপত্র? এবার আপনার মনে হতে পারে কেবল টাকার জন্যই আমরা কাজ করি। আর কিচ্ছু না। আর কোন কারণ নেই। কথাটি হয়তো উড়িয়ে দেয়ার মতোও না। টাকার জন্যই তো আমরা কাজের পেছনে সময় দিই। আমাদের প্রতিদিনের, এমনকি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়টাই দিই। তাই ওই অর্থ উপার্জনের অন্য অর্থও আছে। অনেকে কাজ করেন। কারণ তিনি ভাল কিছু যে করছেন, তার স্বীকৃতি পান। যেমন- সম্মান, কারো প্রতিভা দেশ ও জাতির উপকারে আসছে। এ আনন্দে তিনি কাজ করেন। কেউ স্রেফ আনন্দের জন্যও কাজ করে থাকেন। আবার কেউ নিজের আইডেন্টিটির জন্যে, কেউ পরের জন্য কাজ করেন। কৃতিত্বের মোহেও অনেকে ভীষণ মন তাহলে এক মিনিটও তিনি আর ঐ কাজ করবেন না। ছেড়ে দেবেন। কাজ করার কারণ তাই একেক জনকে একেকভাবে আলোকিত করেছে। নিচের তালিকাটি দেখুন এবং চিহ্নিত করুন, কোন কারণে আপনি কাজ করছেন।  শুধু শুধু বসে থাকতে ভাল লাগে না। তাই নিজেকে ব্যস্ত রাকার জন্যে কাজ করেন।  নিজের প্রতিভা, ক্ষমতা ও দক্ষতা প্রমাণের জন্যে কাজ করেন।  বসে থাকলে যেহেতু এমনি এমনি আইডিয়া আসবে না, তাই নতুন কোন আইডিয়া পাবেন বলে কাজ করেন।  নানা ধরনের মানুষের সংস্পর্ষে আসা যায় বলে।  নিজের সৃষ্টিশীলতা প্রমাণের জন্য কাজ করেন।  কর্মক্ষেত্রে অনেক বন্ধু পাওয়া যায় বলে।  কাজ করলে অনেকে চিনবে, জানবে তাই।  অন্যদের উপর কর্তৃত্ব খাটানো যায় বলে।  সময়কে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে।  অর্থ উপার্জনের জন্য।  যাতে জীবনটা হয়ে ওঠে সুখী ও আনন্দময়।  সমাজে অবদান রাখার জন্য।  শরীর যাতে কর্মক্ষম থাকে সে জন্য কাজ করেন।  জীবনের উপভোগ্য উপাদানগুলো ভোগ করার জন্য।  নতুন নতুন বিষয় শিখে নিজের স্কিল আরো বাড়ানোর জন্য।  নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেয়ার ক্ষমতা অর্জনের জন্য।  চারপাশ ঘিরে প্রিয় মানুষেরা থাকবে এ প্রত্যাশায়।  সমাজ এবং স¤প্রদায়ে সম্মান প্রতিপত্তি নিয়ে বাস করার জন্য।  জীবনে নিরাপত্তাবোধ থাকবে বলে।  নানারকম সুখ পাবার ইচ্ছায়। আপনার দ্যুতিতে কর্মক্ষেত্র তারুণ্যের লাইফস্টাইলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে কর্মময় পৃথিবীতে প্রবেশের সুযোগ। জীবনের শুরুর ধারায় যে শিক্ষাক্ষেত্র তারুণ্যকে পরিশীলিত করে তার যথার্থ প্রয়োগ খুঁজে পাওয়া যায় কর্মজীবনের নতুনত্বের সূচনায়। তারুণ্যের গতিধারা জবস্ লাইফে যেমন অর্থপ্রাপ্তি কিংবা নিজের স্বপ্ন সাজানোর সুযোগ এনে দেয় তেমনিভাবে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ তরুণকে করে তুলে আরো বেশি দায়িত্বশীল এক ব্যক্তি হিসেবে। মূলত মেধার বিকাশে একজন তরুণ কর্মক্ষেত্রে সবার মন জয় করে নিতে পারে। আর সবার কাছে জনপ্রিয়তা তারুণ্যের এক কাক্সিক্ষত পিপাসা। নিজেকে কর্মক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় জনপ্রিয় করে তুলতে মেধার পাশাপাশি চাই কিছু কার্যকর কৌশল। তাই নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। আপনার কাজ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করুক, তা আপনি নিশ্চয় চান। এ জন্য আপনি যে কাজই করছেন সেটির প্রতি প্রথমে নিজেই ইতিবাচক চোখে তাকান, পজেটিভ মনোভাব তৈরি করুন। আপনাকে চাকরিতে নেয়া যে সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল, তা নিয়োগদাতাদের বুঝিয়ে দেয়ার সুযোগ কিন্তু আপনার প্রতিদিনই। 

১. নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসভাজন হোন

 ঠিক সময়ে কাজে আসুন। একান্তই যদি আসা সম্ভব না হয় আগেই তা ফোন করে জানিয়ে দিন। যত কম অনুপস্থিত থাকা যায় সে চেষ্টা করুন।  যা বলবেন তা অবশ্যই করুন। সময় মতো আপনার কাজটি সেরে ফেলুন।  গোছানো থাকুন। পরিচ্ছন্ন রাখুন আপনার কাজের জায়গাটুকু। অনেকেই খেয়াল করেন না বটে, বিষয়টি কিন্তু বেশ জরুরি। জেনে রাখুন, গোছালো ভাবটি উপরওয়ালাদের এ ধারণাই দেয় যে, আপনি যা করেন তার ওপর আপনার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে।  কাজে আপনার সেরাটিই বের করে আনুন।  নিজের কাজের গুণাগুণ যাচাই করুন। 

২. তৎপর হোন

যে সংস্থায় কাজ করছেন বা করতে যাচ্ছেন সে প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। আখেরে এটা আপনাকে ভাল ফল দেবে। তারপর ঠিক করুন কি অবদান আপনি সেখানে রাখবেন, সেটি। যখন আপনি আপনার করণীয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়ে যাবেন, ভাবতে শুরু করুন কিভাবে শুরু করবেন। এটিও ভাবুন, আপনাকে বলার আগেই কোন কাজগুলো করে ফেলতে পারেন।  যা করণীয় দেখতে পাচ্ছেন, তা করে ফেলুন। এটা নিশ্চিত করুন যে, কারো পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে ভর দিয়ে আপনি চলছেন না। আপনি চলছেন নিজের পায়ে, আত্মবিশ্বাসে।  আপনি যা করছেন তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব নিজের মনে করে করুন।  কোন কাজ সম্পর্কে যদি ধারণা না থাকে তবে তা শিখে নিন। সেসব বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠুন, যা আপনাকে সকলের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু করে তুলবে। যেমন সেই ব্যক্তি হয়ে উঠুন- লেখার ত্র“টি শোধরাতে বা কম্পিউটার নিয়ে জটিলতায় পড়লে যার কাছে সবাইকে ছুটতে হয়। 

৩. দলের অংশ হয়ে উঠুন

এ কাজগুলো আমার চাকরির শর্তে নেই, ওটা তো আমার দায়িত্ব না, এ কাজ তো আমার করার কথা না- এ ধরনের কথা, অফিসের সংঘবদ্ধ পরিবেশে বেমানান। যে কাজগুলো করা জরুরি সুযোগ থাকলে তা করে ফেলুন।  যদি কোন প্রজেক্টে, সহকর্মীকে সহায়তা করতে বলা হয়, সুযোগটি নিয়ে নিন। এতে আপনি নতুন অনেক কিছুই জানবেন এবং পরিচিতি পাবেন পরোপকারী সহকর্মী হিসেবে।  তথ্য আদান-প্রদানে তৎপর হোন। সহকর্মী কিছু জানতে চাইলে, অফিস সিক্রেট না হলে তাকে ফিরিয়ে দেবেন না।  সহকর্মীদের সমর্থন করুন, প্রয়োজনে সাহস যোগান।

৪. নমনীয় হোন, মানিয়ে চলুন

 সবকিছুই যে আপনি নিয়ন্ত্রণ করছেন না এ বিষয়ে সচেতন থাকুন।  সমঝোতা করার মানসিকতা রাখুন।  যেকোন সময় কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার মুখোমুখি হতে পারেন, প্রস্তুত থাকুন।  শেখা বন্ধ করবেন না। 

৫. সাহায্য চান

প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নিন। আপনার সীমাবদ্ধতা হলো ব্যক্তিগত শক্তি ও পরিপক্কতার লক্ষণ, এটি বুঝতে চেষ্টা করুন।  যদি কোন কিছু জানা না থাকে, জেনে নিন। শুধু যা প্রয়োজন সেটুকুই জানার চেষ্টা করবেন না। বরং আপনার শেখার ইচ্ছেটিকে বড় করে তুলুন। চাকরি জুটিয়ে ফেলা মানেই সকল সাধ্য-সাধনার অবসান নয়। উপরের পরামর্শগুলো কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়তে, সুনাম তৈরি ও তা ধরে রাখতে সহায়ক হবে। কাজের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন চাইলে এ টিপসগুলো কাজে লাগাতে পারেন। আপনি যদি কর্মক্ষেত্রে সফল হতে চান, প্রতিদিন আপনার সেরা কাজটুকুই করুন। যদি তা করতে পারেন তাহলে দেখবেন নিয়োগদাতা আপনার কর্মতৎপরতার প্রশংসা করছেন এবং আপনিও পাচ্ছেন পরিপূর্ণতা ও তৃপ্তি- জব স্যাটিসফেকশন যাকে বলা হয়।


বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে রূপে-রঙে সাজ যেমন হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে রূপে-রঙে সাজ যেমন হবে

বার্তাবেলা ডেস্ক: শীতের শেষ, বসন্ত কড়া নাড়ছে দরজায়। প্রকৃতি সাজতে শুরু করেছে নতুন রূপে। বসন্তকে বরণ করে নিতে ফ্যাশন প্রেমীরাও উন্মুখ। সাজে, পোশাকে বসন্তকে বরণ করে নিতে তাদের যেন আগ্রহের শেষ নেই। আপনিই বা সেই তালিকা থেকে বাদ পড়বেন কেন। বসন্ত বরণের প্রস্তুতি কম-বেশি সবার মাঝেই থাকে।

বসন্ত ষড়ঋতুর শেষ ঋতু। ফাল্গুন ও চৈত্র মাস মিলে হয় বসন্ত ঋতু। দেশবাসী বেশ জাকজমকতার সঙ্গে পালন করে বসন্তের প্রথম দিন। রাত পোহালেই বাসন্তি রঙের পোশাক পরে বসন্ত বরণ করবে বাঙালিরা।

গতবারের মতো এবারও ভালোবাসা দিবসের দিনই পালিত হতে চলেছে বসন্ত। এদিন কে কোন পোশাক পরবেন কিংবা কীভাবে সাজবেন এ নিয়ে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সবাই উচ্ছ্বসিত থাকেন। এ যেন এক উৎসব।

বিগত কয়েক বছরে বসন্তের সাজ-ফ্যাশনে বেশ পরিবর্তন এসেছে। আগে হলুদ, কমলা বা বাসন্তি রঙের পোশাকের চাহিদা বেশি ছিল। তবে এখন বাহারি রঙের পোশাকেও বসন্ত বরণ করা হয়।

যার মধ্যে লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, টিয়া, সি গ্রিন থেকে শুরু করে মাল্টি কালার কম্বিনেশনও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক এবারের বসন্ত বরণে কেমন হবে আপনার সাজ-পোশাক-

১. বসন্ত বরণের পোশাক হিসেবে শাড়িকেই বেশি প্রাধান্য দেন নারীরা। তবে এবার শাড়ির পাশাপাশি ফ্যাশনে আরও আছে কুর্তি, স্কার্ট, সারারা, এমনকি জিনস-টপসও। আপনি পছন্দসই পোশাক পরতে পারেন। একরঙা শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ না মিললেও সমস্যা নেই।

২. ফুলের গয়না পরতে চাইলে শাড়ির সঙ্গে ভারী কোনো জুয়েলারি পরবেন না। গলায়, হাতে ও কানে গয়না হিসেবে পছন্দমতো যে কোনো ফুলই ব্যবহার করতে পারেন।

বর্তমানে ফুলের হেডব্যান্ডেরও চল বেড়েছে। এটি পরতে পারেন। হালকা ধাঁচের নকশার পোশাকের সঙ্গে ফুলের গয়না পরলে ফুলের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। তবে কেউ কেউ চাইলে একটু ভারী নকশার শাড়ির সঙ্গে ফুল দিয়ে হালকাভাবেও সাজতে পারেন।

৩. এদিন শাড়ির সঙ্গে খোঁপা বা বেণী বেশ মানিয়ে যায়। খোঁপায় রাখতে পারেন গাঁদা ফুল। সঙ্গে লাল টিপ দিন কপালে। রঙিন ফুলের সাজে পাবেন বসন্তের আমেজ। চুল খোলা রাখলেও এক পাশে ফুল দিতে পারেন। চুলের জন্য বড় আকারের ফুল বেছে নিলে একটিই যথেষ্ট।

গয়নাও রাখুন হালকা ধাঁচের। আর ছোট আকারের হলে অবশ্য একাধিক ফুল নিতে পারেন। চুলের বেণীতে ফুল জড়ানো যেতে পারে নানাভাবে। ফুলের মালা কিংবা আটকে নিতে পারেন নানা আকারের ছোট-বড় ফুল। বেণীও সাজাতে পারেন ফুল দিয়ে।

আরও পড়ুন: প্রিয়জনকে চুমু দিলে কী কী হয় জানলে অবাক হবেন

৪. মেকআপের ক্ষেত্রে আবহাওয়া দেখে নিন। সাজে ন্যুড রং, বাদামি, লাল, মেরুন, গেরুয়া ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। চোখের সাজে আনতে পারেন সবুজের ছোঁয়া। আর দিনের মেকআপে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

৫. দু’হাত ভর্তি করে বিভিন্ন রঙের কিংবা একরঙা কাচের চুরি পরুন। শুধু শাড়ি নয় বরং সালোয়ার কামিজ, সারারা কিংবা কুর্তির সঙ্গে কাচের চুরি বেশ মানিয়ে যায়।



মানসিক প্রশান্তি খুঁজতে ৯০ শতাংশ মানুষ পরকীয়া করেন, বলছে সমীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

মানসিক প্রশান্তি খুঁজতে ৯০ শতাংশ মানুষ পরকীয়া করেন, বলছে সমীক্ষা

বার্তাবেলা ডেস্ক: বিবাহবহির্ভূত বা পরকীয়া সম্পর্ক দাম্পত্য জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এর পরিণতি কখনো কখনো হতে পারে মারাত্মক। দাম্পত্য জীবনে অশান্তি, মনোমালিন্য, মতের অমিল, একে অপরকে সময় না দেওয়া ইত্যাদি কারণে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন অনেকেই। 

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা জানাচ্ছে, যারা ঘন ঘন ভ্রমণ করেন বা বাড়ির বাইরে থাকতে পছন্দ করেন, তারা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে খুব সহজেই জড়িয়ে পড়েন।

তবে পরকীয়া সব সময় শারীরিক আকর্ষণেই গড়ে ওঠে তা কিন্তু নয়। সমীক্ষা বলছে, বেশিরভাগ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক যৌন আসক্তি বা যৌন মিলনের বিষয়ে নয় বরং মানসিক প্রশান্তির সঙ্গে যুক্ত।

আরও পড়ুন: হাঁটু মুড়ে বসে কেন প্রোপোজ করা হয়?

একটি গবেষণা বলছে, মাত্র ১০ শতাংশ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক যৌন মিলনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। অন্যদিকে ৯০ শতাংশ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে মানুষ জড়িয়ে পড়েন মানসিক প্রশান্তি খুঁজতে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে তোলার আরও একটি কারণ হলো দাম্পত্য জীবনে একঘেয়েমি বোধ করা।

‘গ্লিডেন’ নামক ফ্রান্সভিত্তিক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের একটি ডেটিং অ্যাপের ২০ শতাংশই ভারতীয়। এটি ভারতে একটি সমীক্ষা চালায় ও নারীদের জিজ্ঞাসা করে, কেন তারা স্বামীর সঙ্গে প্রতারণা করছেন।

আরও পড়ুন: প্রিয়জনকে চুমু দিলে কী কী হয় জানলে অবাক হবেন

সমীক্ষা বলছে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে ২০-৪০ শতাংশ বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। যদিও অনেক দম্পতিই তাদের সামাজিক সম্মান, সন্তানের ভবিষ্যৎ কিংবা পরিবারের কথা চিন্তা করে বিবাহবিচ্ছেদ থেকে সরে দাঁড়ান।

গ্যালাপ পোলের একটি সমীক্ষা বলছে, আমেরিকার ৯১ শতাংশ পুরুষ ও নারী উভয়ই বিশ্বাসঘাতকতাকে নৈতিকভাবে ভুল বলে মনে করেন। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক পরিবার, বিবাহ ও সম্পর্কের ভিত্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। এটি নৈতিক মূল্যবোধের অনুপস্থিতি ও বিশ্বাসভঙ্গের ফলাফল।

বিজ্ঞানীদের মতে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক মূলত প্যাথলজিক্যাল। যাই হোক, পরকীয়া এড়ানোর সমাধান হলো দম্পতিদের মধ্যে ভালো বোঝাপোড়া, মানসিক, আধ্যাত্মিক ও শারীরিক সংযোগ থাকা।