শেয়ার বাজার

মনোনয়ন পেতে প্রতারকের ফাঁদে পড়ে ৫০ লাখ খোয়ালেন আওয়ামী লীগ নেতা; গ্রেফতার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩

মনোনয়ন পেতে প্রতারকের ফাঁদে পড়ে ৫০ লাখ খোয়ালেন আওয়ামী লীগ নেতা; গ্রেফতার ৩

বার্তাবেলা: জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তা পরিচয়ে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ফোন করে এক প্রতারক বলেন, ‘আমি এনএসআইর ডিডি (ডেপুটি ডিরেক্টর) হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আছি। জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সংক্রান্ত ইস্যুতে কাজ করছি। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আমি কয়েকজনকে বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন পাইয়ে দিয়েছি। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এরই মধ্যে কয়েকজনের মনোনয়নের বিষয়টি আমি নিশ্চিত করছি।

মোবাইল ফোনে এমন পরিচয়ে কথা বলে পরে আস্থা অর্জনের পর ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ নেতাকে ওই প্রতারক বলেন, ‘আপনার মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এজন্য ৫০ লাখ টাকা নগদ দিতে হবে। এরপর ভুক্তভোগীকে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা পুতুল নামে একজন নারী কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয় চক্রের সদস্যরা।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের টার্গেট করে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র দেশব্যাপী সক্রিয় হয়। এর ধারাবাহিকতায় চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থানে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের টার্গেট করে।

এভাবে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার ফাঁদে পা দেন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচনে আওয়ামলী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী দীপক কুমার রায় (৬৩)। প্রতারকের ফাঁদে পড়ে ৫০ লাখ টাকা খোয়ান তিনি। পরে গত ২৬ নভেম্বর মনোনয়নপত্রের তালিকা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ হলে সেখানে তার নাম না থাকায় ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

এরপর ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ নেতা দীপক কুমার রায় বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

গ্রেফতাররা হলেন নুরুল হাকিম (৩১), হাসানুল ইসলাম জিসান (২২) ও মো. হারুন অর রশিদ (২৯)।


ডিজিটাল ভূমি জরিপ কিভাবে হবে? পুরনো জরিপ বাতিলের অর্থ কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

ডিজিটাল ভূমি জরিপ কিভাবে হবে? পুরনো জরিপ বাতিলের অর্থ কী?

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ডিজিটাল জরিপ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী সংসদে মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ডিজিটাল জরিপ কার্যকর হলে পুরনো জরিপ বাতিল হয়ে যাবে। এই ডিজিটাল জরিপ কিভাবে হবে? তাছাড়া পুরনো জরিপ বাতিল হয়ে যাবার অর্থ কী?

ভূমিমন্ত্রী দাবি করছেন, ডিজিটাল জরিপ কার্যকর হলে ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা কমে আসবে। ফলে ভূমি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা ও হয়রানিও কমবে। ডিজিটাল পদ্ধতি বা ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভূমির জরিপ পরিচালনাকে ডিজিটাল সার্ভে বলা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে খুব সহজেই জমি পরিমাপ করা যাবে এবং একই সাথে জমির মালিকানা ও মাপের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। এই অঞ্চলে প্রথম ভূমি জরিপ শুরু হয়েছিল ১৮৮৮ সালে কক্সবাজার জেলার রামু থেকে। ওই জরিপের নামকরণ করা হয় সিএস জরিপ। এই জরিপ শেষ হয় ১৯৪০ সালে দিনাজপুর জেলায়। এরপর ধাপে ধাপে আরএস, এসএ, পিএস এবং সবশেষ বিএস জরিপ সম্পন্ন হয়। পুরনো পদ্ধতির জরিপে ফিতা টেনে দিয়ে জমির মাপ নিয়ে ম্যাপ তৈরি করা হতো।বেশ কয়েকটি জরিপ পরিচালনার পরও ভূমির জটিলতা কাটেনি।

মঙ্গলবার সংসদে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৩’ পাশের আলোচনায় অংশ নিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল সার্ভে পর্যায়ক্রমে হবে, এগুলো আসবে। আর ইতোমধ্যে যে সমস্ত জরিপ হয়েছে সব বাতিল। এটা আমি সংসদে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত করতে চাই।’ ফলে চলমান বিএস জরিপ যে অবস্থায় রয়েছে সেই অবস্থাতেই বাতিল হবে কী-না সে বিষয়টি মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়নি। তবে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, যখন কোন জমির ডিজিটাল জরিপ সম্পন্ন হবে, তখন আগের জরিপ বাতিল হয়ে যাবে। ডিজিটাল জরিপ হওয়ার আগ পর্যন্ত যে জরিপ চলেছে সেটা বহাল থাকবে।

ইতোমধ্যে পটুয়াখালী ও বরগুনাতে ডিজিটাল জরিপের পাইলট প্রোগ্রাম চলছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশন, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও ধামরাইয়ে এই ডিজিটাল জরিপের কাজ চলছে বলে অধিদফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সফল হলে এই জরিপের ওপর ভিত্তি করে সারা দেশে ডিজিটাল জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সারা দেশে ডিজিটাল জরিপের সক্ষমতা অর্জনে গত বছর এক হাজার তিনশ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ বছর মেয়াদি ডিজিটাল সার্ভের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে মূলত জমির মানচিত্র ও রেকর্ড সমন্বয় করা হবে। এতে ভূমি মালিক ওয়েবসাইটে গেলে ম্যাপ ও খতিয়ান দুটি একসাথে পেয়ে যাবেন। এজন্য ডিজিটাল ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার প্রস্তুত করা হচ্ছে। সকল ডাটা ক্লাউড বেইজ সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে। জরিপ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোন উড়িয়ে জমির পূর্ণ ছবি ধারণ করা হবে। স্যাটেলাইট ইমেজিং-এর মাধ্যমে জমির অবস্থান ও মাপ নিশ্চিত করা হবে।

স্যাটেলাইট ইমেজ কিনে সেটা মৌজা ম্যাপের সাথে সমন্বয় করে ডিজিটাল ল্যান্ড জোনিং ম্যাপ তৈরি করা হবে। এর ফলে কৃষিজমি, জলাভূমি, পাহাড় ও বনভূমি রক্ষাসহ জমির পরিকল্পিত ব্যবহার করাও সম্ভব হবে। এছাড়া ইটিএস এর মাধ্যমে জমির নির্ভুল পরিমাপ করতে বা প্লট ভাগ করা হবে। প্লট টু প্লট জরিপ সম্পন্ন হলে সরকারি ও বেসরকারি মালিকানার তথ্যটি সহজেই জানা যাবে।এ ধরণের জরিপে জমির পরিমাণ, জমির আইলের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, আকার ইত্যাদির পুঙ্খানুপুঙ্খ মাপ সম্পর্কে জানা যাবে এবং পরিমাপে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। জরিপ অধিদপ্তর বলছে, একবার ডিজিটাল জরিপ সম্পন্ন হলে প্রাকৃতিক কারণে বড় ধরনের ভূমির বিচ্যুতি ছাড়া মাঠে গিয়ে বার বার জরিপ করার প্রয়োজন হবে না। একই সঙ্গে অনলাইনে মৌজা ম্যাপ ও খতিয়ান একসাথে পাওয়া যাবে।

ভূমি জরিপ অধিদপ্তর আশা করছে এতে ভূমি ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তন হবে, আদালতের মামলা কমবে, সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ভূমি জরিপ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত কোন এলাকায় ডিজিটাল জরিপ শুরু করার আগে সেখানকার পত্র পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে না হলে মাইকিং করে এ বিষয়ে প্রচার প্রচারণা চালানো হয় এবং ব্যাপক জনসংযোগ করা হয়। এর মাধ্যমে মূলত সেখানকার জমির মালিকদের জানানো হয়। তারা যে নিজ নিজ জমির সীমানা চিহ্নিত করেন এবং জমির মালিকানার কাগজপত্র যেমন - দলিল, নামজারি ও খাজনা পরিশোধ কাগজপত্র হালনাগাদ অবস্থায় কাছে রাখেন। এর মাধ্যমে ওই ব্যক্তির জমির তথ্য যাচাই বাছাই করা হবে। কোন সমস্যা না থাকলে মালিকানার তথ্য অনলাইনে এন্ট্রি করা হবে। পুরনো পদ্ধতির জরিপে দেখা যেতো একটি খতিয়ানের একাধিক মালিক রয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেই সুযোগ আর থাকছে না।


মেডিকেল ভর্তির ফল প্রকাশ, প্রথম তানজিম মুনতাকা সর্বা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

মেডিকেল ভর্তির ফল প্রকাশ, প্রথম তানজিম মুনতাকা সর্বা

বার্তাবেলা ডেস্ক: উত্তীর্ণদের মধ্যে ৫ হাজার ৩৮০ জন দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। মেডিকেল কলেজে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে প্রথম হয়েছেন তানজিম মুনতাকা সর্বা।

এক ঘণ্টা সময়ের ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষায় তিনি পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৯২ দশমিক ৫ নম্বর। ঢাকার হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে এবারের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

গত শুক্রবার সকালে দেশের ১৯টি কেন্দ্রের ৪৪টি ভেনুতে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা হয়। এবার ১ লাখ ৪ হাজার ৩৭৪ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় বসার জন্য আবেদন করেছিল।

তাদের মধ্যে পাস নম্বর ৪০ বা তার বেশি পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৯২৩ জন। পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৩৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

উত্তীর্ণদের মধ্যে ৫ হাজার ৩৮০ জন দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে মেধা কোটার ৫০৭২টি আসনের মধ্যে ২ হাজার ১৯৪ জন ছাত্র এবং ২ হাজার ৮৭৮ জন ছাত্রী।

এর বাইরে ৬৭টি অনুমোদিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ৬ হাজার ২৯৫টি আসন পূরণ করা হবে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম ও পছন্দের ভিত্তিতে।

যারা ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছেন, তারা https://result.dghs.gov.bd/mbbs ওয়েবসাইট থেকে রোল নম্বর দিয়ে ফল জানতে পারবেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের https://dgme.portal.gov.bd/ ওয়েবসাইটেও ফলাফলের তথ্য প্রকাশ করা হবে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

সরকারি মেডিকেল কলেজে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আগামী ১৮ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভর্তি হতে হবে।



রাজনৈতিক সহিংসতায় সংকট বাড়বে অর্থনীতিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর, ২০২৩

রাজনৈতিক সহিংসতায় সংকট বাড়বে অর্থনীতিতে

সিসিএন ডেস্কঃ  গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সমকালকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক কালের রাজনীতি সবাইকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, সরকারও অর্থনীতির সমস্যার দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছে না। এর কারণে অর্থনীতি যতটা খারাপ হওয়ার কথা ছিল, তার চেয়ে বেশি হয়েছে। এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে দায়িত্বশীলদের মনোযোগ না দেওয়া, সংকটকে অবজ্ঞা করা ও অবহেলার কারণে।’ ভরসার জায়গা রেমিট্যান্সেও চোট লেগেছে। সেপ্টেম্বরে ৪১ মাসের সর্বনিম্ন ১৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। ডলারের দাম বৃদ্ধিতে চলতি মাসে কিছুটা বেড়েছে রেমিট্যান্স। যদিও তা আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি নয়। বিদেশি বিনিয়োগ গত অর্থবছরে কিছুটা বাড়লেও, তাতে অন্যান্য খাতের ঘাটতি দূর হওয়ার মতো নয়।

চলমান অবস্থাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. দেবপ্রিয় বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণ ও স্থিতিশীলতা পুরোপুরিভাবে রাজনৈতিক উত্তরণ ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে উত্তরণ না হলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া জটিল থেকে জটিলতর হবে। লক্ষ্য করছি, রাজনীতি এত বেশি আচ্ছন্ন করছে যে, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে আর কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেবে না। এটা হোক মূল্যস্ফীতি বা মুদ্রার বিনিময় হার বিষয়ে বা শুল্ক সম্পর্কিত, অথবা খেলাপি ঋণ আদায় করে সম্পদ আহরণের বিষয়ে। এই অবহেলা ও গড়িমসির কারণে সার্বিকভাবে অর্থনীতি জিম্মি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ পরিস্থিতি নতুন নয়। অভিজ্ঞতা বলছে, এ অবস্থা চলতে থাকলে বৈদেশিক বাণিজ্য থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব পড়ে। এমনিতেই অর্থনীতি নাজুক অবস্থায়। যে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে তারও সঙ্গিন হয়ে পড়ার শঙ্কা দেখছি, এটাই সবচেয়ে বেশি দুঃখের বিষয়।

রপ্তানির অনুপাতে আমদানি বৃদ্ধি ও রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় ডলার সংকটে এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অর্থনীতিতে কঠিন সময় চলছে। অর্থনীতির সব সূচকেই অবনতির মুহূর্তে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা সংহিসতায় রূপ নিয়েছে। এতে ক্ষতি আরও ব্যাপক হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

তারা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন ঘিরে কোনো সমঝোতা না হলে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে। মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। নির্বাচনের আগে সহিংসতা এড়াতে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে শর্তহীন আলাপ-আলোচনাকেই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ মনে করছেন তারা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা মির্জ্জা এ বি আজিজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এতদিন যে অস্থিরতা ছিল, তা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এটা ভালো লক্ষণ নয়। এতে আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হবে। দেশে পরিবহন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হবে। মোট কথা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির নিশ্চিত করেই আরও অবনতি হবে।’

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি এবং সমমনা দলগুলোর মহাসমাবেশ ঘিরে রাজধানীর নয়াপল্টনের আশপাশ এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিএনপি কর্মীদের হামলায় নিহত হয়েছেন একজন পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া নিহত হন এক যুবদল নেতা। মহাসমাবেশ পণ্ডের প্রতিবাদে রোববার দেশজুড়ে হরতাল করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলো। সেদিন প্রাণ গেছে অন্তত তিনজনের।

আজ মঙ্গলবার থেকে তিন দিনের সড়ক-রেল-নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে বিএনপি, জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো। বিরোধী দলগুলো সর্বাত্মক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সরকার এবং ক্ষমতাসীন দল তা প্রতিরোধের কথা বলছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে তারা।

২০১৩ এবং ২০১৫ সালেও একই পরিস্থিতি হয়েছে। সেই সময়ে হরতাল-অবরোধে পরিবহন খাত বিঘ্নিত হয়েছে আগুন সন্ত্রাসে। সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির হিসাব অনুযায়ী সে সময়ে অন্তত ৫ হাজার যানবাহন পুড়িয়ে দিয়েছিল হরতাল-অবরোধের ডাক দেওয়া বিএনপি ও জামায়াত।

এবার পরিস্থিতি একই দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৩ ও ২০১৫ সালে অর্থনীতি সবল ছিল। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে। করোনার পর ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাতে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধ বিশ্ব ব্যবস্থাকে আরও টালমাটাল করেছে।

বাংলাদেশে গত দুই বছরে ৪৮ বিলিয়ন থেকে কমে ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৮ বিলিয়নের কাছাকাছি নেমে এসেছে। আইএমএফের কাছে ধার করতে হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ। আমদানির জন্য ব্যাংকে ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে ডলারের সংকট চলছে কয়েক মাস ধরেই।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ নাকাল। রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরুর তিন দিনে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে। দামে লাগাম টানতে না পেরে আলু আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। একই অবস্থা ডিমের ক্ষেত্রে। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে গত দুই মাসে একবারও বিক্রি হয়নি পেঁয়াজ, আলু, ডিমের মতো নিত্যপণ্য। অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবজি চাষ। সবজির বাজারে অনেক দিন ধরেই আগুন। কাঁচা পেঁপে ছাড়া অন্য সবজি ৮০ টাকা কেজির কমে মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে নিত্যপণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজনৈতিক সংকট সমাধানে এবং অর্থনীতি যেন আরও কঠিন পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে জন্য প্রাকৃতজনের জেগে ওঠা প্রয়োজন বলে মনে করেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক যতীন সরকার। তিনি সমকালকে বলেছেন, ‘সবাই সহিষ্ণু আচরণ করুক। সবাই আলোচনায় বসুক। শর্তমুক্ত হয়ে বসুক। তাহলেই সমস্যার সমাধান হবে।’