শেয়ার বাজার

পুষ্টির ডিনামাইট সজিনা
পুষ্টির ডিনামাইট সজিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

পুষ্টির ডিনামাইট সজিনা

পুষ্টির ডিনামাইট সজিনা

@ জান্নাতুল হাবিবা হীরামনি @

 পুষ্টির ডিনামাইট সজিনা। সজিনা ভেষজগুনেরও রাজা। এর জুড়ি মেলা ভার। সজিনা এক বিশেষ ধরনের সবজি। কোনো কোনো এলাকায় সজনা, সজনে কিংবা সাজনা বলে। ইংরেজি নাম ড্রামস্ট্রিক। এছাড়া বিখ্যাত কবিরাজগণ বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করেন। যেমন: সুপত্রক, সুখামোদ, রুচিরঞ্জন, শোভারঞ্জন, উপদংশ, দংশমূল, শিগ্র“, মধুশিঘ্রক এবং তীক্ষœগন্ধ। সজিনাগাছ মাঝারি ধরনের বৃক্ষ। সাধারণত ৪০-৫০ ফুট উঁচু হয়। এর কাঠ খুব নরম এবং বাকল আঠাযুক্ত। সজিনা মাঘ-ফাল্গুনে গাছে ফুল আসে। এর রঙ সাদা। ফল পাকে চৈত্র -আষাঢ়ে। ফলের বীজ ক্রিকোণাকার। এর আদি নিবাস ভারত ও পাকিস্তান। সজিনার ডাঁটা উৎকৃষ্ট সবজি আর পাতা হিতকর শাক। ডাঁটার তৈরি রকমারি খাবার যেমন: ডালসজনা, ভর্তা, সরিষাবাটা সজনা, পাতাভাজি, শাকবড়া এবং ফুলের সাথে ডিম ভাজি দারণ রেসিপি! সজিনার ডাঁটা খেতে সুস্বাদু, তবে পাতা ও ফুল তিতা হলেও যথেষ্ঠ পুষ্টিকর। শুধু কী তাই! এতে রয়েছে ভেষজগুণে ভরপুর। সজিনা মুখে রুচি বাড়ায়। তাই রোগীর পথ্য হিসেবে অনন্য। এর বীজ হতে উৎপন্ন তেলের নাম ‘বেন ওয়েল’। মানুষের খাবারের পাশাপাশি পশুখাদ্য, ঘড়ি মেরামত, পানিশোধক, রঙ ও কাগজ তৈরিতে সজিনার ব্যবহার সমাদৃত। বহুগুণে গুণান্বিত সবজির মধ্যে এর স্থান শীর্ষে। এ কারণেই দক্ষিণ আফ্রিকায় সজিনাকে বলা হয় ‘জাদুর গাছ’। তাই এর গুণের কথা জেনে নেয়া দরকার।

পুষ্টিগুণে ভরপুর সজিনাঃ

সজিনা কেবল ভিটামিন সি ও ক্যারোটিনসমৃদ্ধ সবজিই নয়, এর অন্য পুষ্টি উপাদানগুলোর পরিমাণও রয়েছে বেশ। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম, ডাঁটায় (আহারোপযোগী) আমিষ ৩.২ গ্রাম, শর্করা ১১.৪ গ্রাম,, ক্যালসিয়াম ২১ মিলিগ্রাম,, লৌহ ৫.৩ মিলিগ্রাম,, চর্বি ০.১ গ্রাম,, ভিটামিন এ ৭৫০ মাইক্রো গ্রাম,, ভিটামিন বি১ ০.০৪ মিলি গ্রাম,, ভিটামিন বি২ ০.০২ মিলি গ্রাম,, ভিটামিন সি ৪৫ মিলি গ্রাম,, খনিজ লবণ ১.৯ গ্রাম,, আঁশ ৪.৮ গ্রাম,  এবং খাদ্যশক্তি আছে ৬০ কিলোক্যালরি। আর পাতায় রয়েছে ৬.৭ গ্রাম, আমিষ, ১২. গ্রাম, শর্করা, ৪৪০ মিলি গ্রাম, ক্যালসিয়াম, ৭ মিলি গ্রাম, লৌহ, ১.৭ গ্রাম,  চর্বি, ৬৭০০ মাইক্রো গ্রাম, ভিটামিন এ, ০.০১ মিলি গ্রাম, ভিটামিন বি১, ০.০৫ মিলি গ্রাম, ভিটামিন বি২, ২২০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ২.৩ গ্রাম, খনিজ লবণ, ০.৯ গ্রাম, আঁশ এবং ৯২ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি। শুকনো পাতায় এর পরিমাণ আরো অধিক। সজিনাপাতায় দুধের চেয়েও বেশি ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিংক আছে। পুষ্টির পরিমাণ বেশি থাকার কারণে সজিনাকে ‘পুষ্টির ডিনামাইট’ উপাধি দেয়া হয়।

ভেষজগুণঃ 

সজিনা প্রায় তিনশ’ রোগের প্রতিকার এবং প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি ও লিভারকে সচল রাখে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস এবং শরীরের কোলেস্টরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। দেহের অতিরিক্ত ওজন কমানো, মায়ের দুধের পরিমাণ বাড়ানো, হজমে সহায়তাকরণ এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণেও রাখে বিরাট ভূমিকা। এছাড়া ক্যান্সার, ব্লাডপ্রেসার, অ্যানিমিয়া, কিডনির পাথর, বন্ধ্যাত্ব, হার্ডের ব্যথা, জয়েন্টের ব্যথাসহ আরো নানা রোগের জন্য বেশ উপকারী। শরীরের রক্তশূন্যতা দূর করতে সজিনার ডাঁটা সিদ্ধকরে চিবিয়ে খেতে হয়। এছাড়া কৃমিনাশক ও জ¦রনাশক হিসেবে কাজ করে। ফলের নির্যাস ধনুষ্টংকার, প্যারালাইসিস, যকৃত ও প্লীহাজনিত রোগের উপকার করে। সজিনার পাতা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। জ¦র ও সর্দি সারাতে সজিনাপাতার কার্যকারিতা বেশ। নিয়মিত পাতার রস খেলে শ^াসকষ্ট দূর হয়। পাতা বেটে টিউমার এবং ফোড়ায় ব্যবহার করলে উপকার হয়। দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়ায় কিংবা রক্ত দেখা দিলে পরিমাণমতো পানি দিয়ে সজিনা পাতা গরম করে নিয়মিত দু’তিনবার কুলকুচা করতে হবে। এভাবে ৭/৮ দিন ব্যবহার করলে প্রতিকার পাওয়া যায়। ৮/১০ ফোঁটা পাতার রস, সে সাথে এক কাপ পরিমাণ দুধ মিশিয়ে খেলে হেঁচকি ওঠা বন্ধ হয়ে যাবে। পাকাপাতার ২/৩ চামচ রস খাবারের আগে খেলে উচ্চরক্তচাপ কমে যায়। তবে ডায়াবেটিস রোগীকে এ রস খাওয়ানো যাবে না। কুকুরে কামড়ালে সজিনা পাতা পিষে এর সাথে পরিমাণমতো হলুদ, রসুন, গোলমরিচ ও লবণ মিশিয়ে খেলে বিষ নষ্ট হয়ে যায়। সাপেকাটা রোগীর জন্য এর মূল ও বীজ ব্যবহার হয়। কানসহ শরীরের কোনো স্থানে ব্যথা হলে কিংবা ফুলে গেলে সজিনার শিকড় বেটে রস বের করে প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়। কুষ্ঠ রোগ হলে বীজের তেল বা বীজ বেটে প্রলেপ দিলে ভালো কাজ করে। বাতে আক্রান্ত করলে প্রতিদিন ৪/৫ চা চামচ গাছের ছালের রস খেলে আরাম অনুভব হবে। হাঁপানীর জন্য ফুলের রস বেশ উপকারী। এছাড়া দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে কিডনির পাথর নিমূল করে। ফুল ও ডাঁটা পক্স প্রতিরোধক। মূলের ছাল বেটে প্রলেপ দিলে দাদ (দাউদ) রোগ ভালো হয়। কপালে আঠা মালিশ করলে কিংবা দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে মাথা ব্যথা দূর হয়। খুসকি দূর করতে পাতার রস মাথায় ভালোভাবে ঘষতে হবে।সজিনার ফল, বিচি, পাতা, ফুল, গাছের বাকল, মূল এবং আঠা প্রতিটি মহামূল্যবান। এসব ব্যবহারে দেহে পুষ্টির অভাব পূরণ হয়। পাশাপাশি শরীরকে নীরোগ রাখে ।


শূন্য থেকে সফল ও প্রতিষ্ঠিত
দোয়ারাবাজারে বাদশা মিয়ার ‘নার্সারি বিপ্লব’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ মে, ২০২৬

দোয়ারাবাজারে বাদশা মিয়ার ‘নার্সারি বিপ্লব’

নিজস্ব প্রতিবেদকঅক্ষর জ্ঞান নেই তাতে কী? মেধা, পরিশ্রম আর মাটির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকলে যে ভাগ্যের চাকা ঘোরানো যায়, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাদশা মিয়া। মাত্র দেড় যুগ আগে নিজের বসতবাড়িতে যে নার্সারির যাত্রা শুরু করেছিলেন, আজ তা ডালপালা মেলে তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে সফলতার শিখরে। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের পশ্চিম পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাদশা মিয়া এখন একজন প্রতিষ্ঠিত কোটিপতি নার্সারি ব্যবসায়ী।

​দেড় যুগ আগে ক্ষুদ্র পরিসরে ‘বাদশাহ নার্সারী’র যাত্রা শুরু হয়। ব্যবসার শুরুতেই লাভের মুখ দেখায় বাদশা মিয়াকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে দোয়ারাবাজার ছাড়িয়ে বিভাগীয় শহর সিলেটেও তাঁর ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। শাহপরান রোড এলাকায় ‘নাইসা নার্সারী’র পার্টনারশিপ মালিক তিনি। এ ছাড়া নিজ গ্রামে দুটি এবং বাংলাবাজারের বরইউড়ি গ্রামে একটি বিশাল নার্সারি বাগান গড়ে তুলেছেন তিনি। শূন্য থেকে শুরু করে আজ তিনি কয়েক কোটি টাকার মালিক।

​বাদশা মিয়া দুই ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। বর্তমান সময়ে সন্তানদের বিদেশে পাঠানোর হিড়িক থাকলেও বাদশা মিয়া হেঁটেছেন ভিন্ন পথে। তিনি তাঁর দুই ছেলে ফারুক মিয়া ও খোকন মিয়াকে বিদেশে না পাঠিয়ে নিজের নার্সারি ব্যবসায় যুক্ত করেছেন। বাদশা মিয়া বলেন, 'আমি ছেলেদের বিদেশে পাঠাইনি, তাদের সাথে নিয়ে নার্সারি ব্যবসায় সময় দিয়েছি। আজ আমরা সবাই মিলে সফল।' 

​বাবার হাত ধরে ব্যবসায় আসা দুই পুত্র এখন স্বাবলম্বী। বড় ছেলে ফারুক মিয়া জানান, 'শুরুতে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল, কিন্তু বাবার জেদ আর পরিশ্রম আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে মাটির সাথে মিশে থাকতে হয়। এখন আমাদের উৎপাদিত চারা সারা জেলায় যাচ্ছে, এটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি।'

​ছোট ছেলে খোকন মিয়া বলেন, 'অনেকে মনে করেন বিদেশে গেলেই কেবল ভাগ্য বদলানো সম্ভব। কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি দেশে থেকে নার্সারি করেও কোটিপতি হওয়া যায়। এখন আমরা নিজেরাই চারা উৎপাদন ও বিপণন তদারকি করি।'

​বাদশা মিয়ার নার্সারিতে মিলছে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির উন্নত মানের চারা:গোলাপ, গাঁদা, গাজরা, রায়বেলী, জিনিয়া, কসমস, দোপাটি ও সূর্যমুখী। উন্নত জাতের আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, কামরাঙ্গা, বেল, জামরুল, আপেল ও কমলা। ঘৃতকুমারী, তুরুক চান্ডাল, বাই চান্ডাল, পাথরকুচি, নিম, অর্জুন, শতমূলসহ বিভিন্ন প্রকার মসলাজাতীয় গাছ।

​চারার গুণগত মান ভালো হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ভিড় করছেন। নার্সারিতে চারা কিনতে আসা আশফাক আহমেদ জানান, 'প্রতি বছরই নিজেদের বাগানের জন্য এখান থেকে চারা সংগ্রহ করি। শুধু চারা নয়, গাছের পরিচর্যা সম্পর্কেও বাদশা মিয়ার কাছ থেকে মূল্যবান পরামর্শ পাওয়া যায়। তাদের চারার মৃত্যুহার খুব কম।'

​অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর মাটির টানে বাদশা মিয়ার এই ‘সবুজ বিপ্লব’ এখন দোয়ারাবাজারের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। তবে বাদশা মিয়া মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা পেলে এই নার্সারি শিল্পকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করা সম্ভব। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।


পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশ—অর্জনের উচ্ছ্বাসের সঙ্গে নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন
রূপপুরের আলো: শক্তির নতুন দিগন্ত, নাকি দায়িত্বের কঠিন পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ মে, ২০২৬

রূপপুরের আলো: শক্তির নতুন দিগন্ত, নাকি দায়িত্বের কঠিন পরীক্ষা

বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অগ্রগতি, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ


বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বহু প্রতীক্ষিত এক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর মধ্য দিয়ে। এটি কেবল একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন নয়; বরং একটি নতুন যুগে প্রবেশ। দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট, জ্বালানি নির্ভরতার অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান শিল্প ও নগর চাহিদার প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্প বাংলাদেশের উন্নয়ন-অভিযাত্রায় একটি বড় বাঁকবদল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কিন্তু বড় অর্জনের সঙ্গে বড় প্রশ্নও আসে। পারমাণবিক শক্তি যেমন বিপুল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়, তেমনি এটি বহন করে গভীর ঝুঁকি ও দায়িত্ব। তাই রূপপুরের আলোয় আলোকিত হওয়ার এই মুহূর্তে আমাদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—আমরা কি এই শক্তিকে নিরাপদ ও টেকসইভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য প্রস্তুত?

শক্তির রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এতদিন মূলত নির্ভর করেছে প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল ও আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামা, সরবরাহ সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ—সব মিলিয়ে জ্বালানি খাত বারবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই বাস্তবতায় পারমাণবিক শক্তি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে সামনে এসেছে।

রূপপুর প্রকল্প চালু হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এমন একটি শক্তির উৎস পেল, যা তুলনামূলকভাবে কম জ্বালানি দিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। একই সঙ্গে এটি কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রযুক্তির সঙ্গে দায়িত্বের সমীকরণ

পারমাণবিক শক্তির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যই হলো—এটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এবং একই সঙ্গে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এর ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ত্রুটি ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। ইতিহাসে চেরনোবিল দুর্ঘটনা এবং ফুকুশিমা দুর্ঘটনা এই বাস্তবতার নির্মম উদাহরণ।

এই দুটি ঘটনা শুধু প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা নয়; বরং সেগুলো ছিল ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, প্রস্তুতির অভাব এবং সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার ফল। ফলে পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে একটি বিষয় স্পষ্ট—এখানে কোনো আপসের সুযোগ নেই। নিরাপত্তা হতে হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব আরও বেশি। কারণ দেশটি ঘনবসতিপূর্ণ, নদীবিধৌত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা একটি অঞ্চল। তাই রূপপুর প্রকল্প পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ এবং তদারকি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: নীরব কিন্তু বড় চ্যালেঞ্জ

পারমাণবিক শক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তেজস্ক্রিয় বর্জ্য। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর যে বর্জ্য তৈরি হয়, তা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বিপজ্জনক থাকে। এই বর্জ্যের নিরাপদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা একটি জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া।

বাংলাদেশকে এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ছাড়া এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

মানবসম্পদ ও সক্ষমতা: ভবিষ্যতের বিনিয়োগ

রূপপুর প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়; এটি একটি জ্ঞানভিত্তিক খাতের সূচনা। এই খাত টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন দক্ষ জনবল, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা। বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ধীরে ধীরে নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি করা জরুরি।

এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা এবং সরকারের মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পারমাণবিক শক্তি ব্যবস্থাপনা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি—এটি একদিনে অর্জন করা যায় না।

আস্থা ও জবাবদিহিতা: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি

পারমাণবিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে জনআস্থা একটি বড় বিষয়। জনগণকে নিশ্চিত করতে হবে যে এই প্রকল্প নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো দুর্ঘটনা বা ত্রুটি গোপন না করে দ্রুত ও খোলামেলা তথ্য প্রকাশ করতে হবে।

স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আন্তর্জাতিক তদারকি এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আস্থাহীনতা তৈরি হলে একটি ভালো প্রকল্পও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠতে পারে।

সামনে পথ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি কোনো শেষ গন্তব্য নয়; বরং একটি দীর্ঘ যাত্রার শুরু।

এই যাত্রায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে—দায়িত্বশীলতা, সতর্কতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। কারণ পারমাণবিক শক্তি এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে সাফল্য যেমন বড়, ব্যর্থতাও তেমনি ভয়াবহ হতে পারে।


রূপপুরের আলো আজ আমাদের সম্ভাবনার কথা বলছে। কিন্তু সেই আলো টেকসই হবে কি না, তা নির্ভর করবে আমাদের সিদ্ধান্ত, দক্ষতা এবং জবাবদিহিতার ওপর। উন্নয়নের এই শক্তিকে আমরা কতটা দায়িত্ব নিয়ে ব্যবহার করতে পারি—সেটিই এখন দেখার বিষয়।



কৃষিকে স্মার্ট, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক করতে সিংগাইরে পিএফএস কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬

কৃষিকে স্মার্ট, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক করতে সিংগাইরে পিএফএস কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

বি. এইচ. খান : স্মার্ট, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, অধিক লাভজনক এবং বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন,  জলবায়ু সহনশীল কৃষি উন্নয়নে  খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষকের আয় বৃদ্ধি, পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ের কৃষিতে টেকসই প্রযুক্তির বিস্তার ঘটাতে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পার্টনার ফিল্ড স্কুল (পিএফএস) কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়গতকাল সোমবার (১৫ জুন) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউটিশন এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা- খায়রুন্নাহারের সভাপতিত্বে এক বিশাল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় কংগ্রেসে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের রূপরেখা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। । অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: কিশোর আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মতিউর রহমান, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো: হাবেল উদ্দিন ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন, উপকার ভোগী কৃষক আলী হোসেন ও কৃষাণী সাবিনা আক্তার প্রমূখ। বক্তারা বলেন, কৃষকের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় ফিল্ড স্কুল, উত্তম কৃষি চর্চা, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি, মানসম্মত তথ্য ব্যবস্থাপনা ও ফার্মার্স সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল চাষাবাদ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং কৃষিকে লাভজনক বাণিজ্যিক পেশা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে বক্তারা

অতিথিগণ বক্তব্যে আরও বলেন, 'পার্টনার কংগ্রেস' হলো অত্র প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত একটি সমাবেশ বা মিলনমেলা। এর মূল লক্ষ্য মাঠপর্যায়ের কৃষকদের নিরাপদ, আধুনিক ও লাভজনক কৃষি প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং কৃষিকে উৎপাদনমুখী থেকে স্মার্ট ও বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর করা। দিনদিন আমরা অতিরিক্ত ও অনিরাপদ খাবার গ্রহণ করার ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। এতে খাবার গ্রহণের চেয়ে চিকিৎসা ব্যয় অনেকগুণে বেড়ে গেছে। এই জন্য উত্তম কৃষি চর্চার (GAP) মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও গ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এটি কেবল বিষমুক্ত ও পুষ্টিকর খাবারই নিশ্চিত করে না, বরং মানবস্বাস্থ্য, মাটি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে কৃষিকে টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করে।  অনুষ্ঠানে তৃণমূলের কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কংগ্রেসে কৃষিকে আরও লাভজনক, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই খাতে রূপান্তরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি থেকে প্রণীত বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুযায়ী আয়োজিত এ কংগ্রেসে দেশের কৃষি খাতকে আরও বাণিজ্যিক, লাভজনক ও টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। র মধ্যে রয়েছে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের অর্জিত জ্ঞান ও প্রযুক্তি দ্রুত সাধারণ কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া, আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি, উচ্চমূল্যের পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদন ও কার্যকর বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রতিটি পিএফএসকে স্বনির্ভর ফার্মার সার্ভিস সেন্টার’-এ রূপান্তর করা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার নিশ্চিত করা। কৃষক-কৃষাণিরা আধুনিক চাষাবাদ, কম খরচে অধিক ফলন এবং পরিবেশবান্ধব বালাইনাশক ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তারা নতুন প্রযুক্তি, আধুনিক কৃষিযন্ত্র ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন ফসল উৎপাদনের বৈজ্ঞানিক দিক সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন। কৃষি খাতকে একটি মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কী- নোট আরোচনায় জানান- আইল ফসল, ইঁদুর ব্যবস্থাপনাপোকার চিড়িয়াখানা, বীজ, বীজের স্বাস্থ্য ও ভাল বীজের বৈশিষ্ট্য, জৈব কৃষি, পোকা দমনে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ, উপকারী পোকামাকড় সংরক্ষণ ও বংশ বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে বায়োএজেন্ট বৃদ্ধি, উদ্ভিদের বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের কাজ ধান ফসলে সার ব্যবস্থাপনা , ধান ক্ষেতে পানি ব্যবস্থাপনা, ধানের প্রধান প্রধান ক্ষতিকর পোকা ব্যবস্থাপনা,মাজরা পোকা ব্যবস্থাপনা,বাদামী গাছ ফড়িং ব্যবস্থাপনা, পাতা মোড়ানো পোকা, ধানের পামরি পোকা ব্যবস্থাপনা, চুংগী পোকা ব্যবস্থাপনা,গান্ধী পোকা ব্যবস্থাপনা, শীষ কাটা লেদাপোকা ও লেদাপোকা ব্যবস্থাপনা, ধানের নলি মাছি,ধানের প্রধান প্রধান রোগসমূহ ব্যবস্থাপনা, খোল পোড়া রোগ ব্যবস্থাপনা, খোলপচা রোগ ব্যবস্থাপনা, পাতাপোড়া বা পাতা ঝলসানো (বিএলবি) রোগ ব্যবস্থাপনা, ¬াষ্ট রোগ ব্যবস্থাপনা, টুংরো রোগ ব্যবস্থাপনা,উফরা রোগ ব্যবস্থাপনা,গোড়া পচা ও বাকানি রোগ ব্যবস্থাপনা, আগাছা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা,ধানের সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা, বেগুনের পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা, কাঁঠালে পোকা,পাতার জ্যাসিড বা শ্যামা পোকা,জাব পোকা, বেগুনের প্রধান প্রধান রোগ ব্যবস্থাপনা,বেগুনের ফলপচা ও কান্ড পচা রোগ,বেগুনের উইল্ট, কুমড়া জাতীয় ফসলের পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা,ফলের মাছি পোকা;সবজির রেড পামকিন বিটল, জাব পোকা,কুমড়া জাতীয় ফসলের রোগ ব্যবস্থাপনা,সাদা গুড়া (চড়ফিবৎু সরষফব)ি , ডাউনী মিলডিউ (উড়হিু সরষফব)ি, সীম ফসলের প্রধান প্রধান পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা, সীমের ফল ছেদক পোকা, সীমের জাব পোকা, সীমের পাতা ছেদক পোকা, সীমের সবুজ লেদা পোকা, সীম ফসলের রোগ ব্যবস্থাপনা, এনথ্রাকনোজ, ফল চাষের গুরুত্ব ও পুষ্টিমান নিয়ে আলোচনা, ফল গাছের ফলন বৃদ্ধির উপায়, ফলের পোকামাকড় রোগবালাই ও পুষ্টির অভাবজনিত সমস্যার নমুনা সংগ্রহ, বাছাই ও সনাক্তকরণ, ফল গাছের সমস্যাবলীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, ফল ও ফল গাছের বালাইয়ের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, ফল ঝরে যাওয়ার কারণ ও প্রতিকার, গাছ ছাঁটাই ব্যবস্থাপনা, আম গাছে একান্তর ক্রমিক ফল ধারনের কারণ ও ব্যবস্থাপনা, ফল গাছের বৃদ্ধি হরমোনের প্রভাব ও এর প্রয়োগ পদ্ধতি, কলার জাত, চারা নির্বাচন ও সঠিকভাবে চারা রোপন কৌশল, কলা বাগানের সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, কলার অতিরিক্ত সাকার (চারা) ও ফুল অপসারণ, কলা গাছে খুঁটি দেয়া এবং কাঁদি ঢেকে দেয়া, ফল পরিপুষ্ট ও পরিপক্ক হওয়ার সঠিক সময় নির্ধারণ, নিরাপদ উপায়ে ফল সংগ্রহ ও সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা, বাছাই, গ্রেডিং, প্যাকিং, পরিবহণ, পাকানো ও বাজারজাতকরণ, বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব , বালাইনাশকের ঝুঁকিমুক্ত ব্যবহার কৃষকদের প্রশিক্ষণে হাতে- কণমে মিক্ষা দেওয়া হয়।

  এছাড়াও স্মার্ট ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে কৃষি চর্চার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানা বক্তারা। এছাড়া অনুষ্ঠানস্থলে স্টলে উন্নত জাতের ফসল ও কৃষিপণ্য প্রদর্শন করা হয়, যা কৃষকদের মধ্যে নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতি সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি করে।

 এসময় উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: ইব্রাহীম হোসেন, সিংগাইর প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক দৈনিক ইনকিলাব প্রতিনিধি মো. রকিবুল হাসান বিশ্বাস ও যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক দৈনিক আমার দেশ প্রতিনিধি আব্দুল মোতালেব ও সিংগাইর উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মোবারক হোসেনদৈনিকপ্রতিদিনের বাংলাদেশপ্রতিনিধি মো.আতিকুল ইসলামসহ কৃষক, পার্টনার ফিল্ড স্কুলের কর্মকর্তা ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে সভার সভাপতি উপজেলা নির্বাহি অফিসার খায়রুন্নাহার এর বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।  অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় উপজেলা কৃষি সম্প্রারণ অফিসার রিদওয়ানুল হক ও উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কাজী শহিদুল ফেরদৌস দায়িত্ব পালন করেন।

বি. এইচ. খান ।

০১৭১৬-১৮৬২৩০.

kbbokulbd@gmail.com.