শেয়ার বাজার

থার্টি ফার্স্ট নাইট ও বড় দিনে ডিজে পার্টি,গান-বাজনা,আতশবাজি নিষিদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৩

থার্টি ফার্স্ট নাইট ও বড় দিনে ডিজে পার্টি,গান-বাজনা,আতশবাজি নিষিদ্ধ

বার্তাবেলা: থার্টি ফার্স্ট নাইটে উন্মুক্ত স্থানে বা বাড়ির ছাদে গান-বাজনা ও আতশবাজি ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান। এছাড়া যে কোনো ধরনের ডিজে পার্টিও নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানান তিনি।

বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে সোমবার (১১ ডিসেম্বর) আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান।

এসময় ডিএমপি কমিশনার বলেন, ২৫ ডিসেম্বর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এছাড়াও ইংরেজি ক্যালেন্ডারের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর দেশব্যাপী থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করা হবে। এ দুটি বড় উৎসব ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টিম ডিএমপি রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নগরবাসীর কাছে সর্বাত্মক সহযোগিতা চাই।

সভায় ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস্) বিপ্লব কুমার পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইটে গৃহীত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে প্রত্যেকটি চার্চে ইউনিফর্মে ও সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। প্রতিটি চার্চে আর্চওয়ে দিয়ে দর্শনার্থী ঢুকতে দেওয়া হবে। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে ও ম্যানুয়ালি তল্লাশি করা হবে। অনুষ্ঠানস্থল ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। নিরাপত্তায় থাকবে ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা। চার্চ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকবে। চার্চ এলাকায় কোনো ভাসমান দোকান বা হকার বসতে দেওয়া হবে না। কোনো প্রকার ব্যাগ নিয়ে চার্চে আসা যাবে না।

এছাড়ও কোনো উন্মুক্ত স্থানে বা বাড়ির ছাদে কোনো গান-বাজনা ও আতশবাজি ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। যে কোনো ধরনের ডিজে পার্টি নিষিদ্ধ থাকবে। থার্টি ফার্স্ট নাইটে আইডি কার্ড ব্যতীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। গাড়ি প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার থাকতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে শাহবাগ ও নীলক্ষেত এলাকা ব্যবহার করতে হবে।

সমন্বয় সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এ কে এম হাফিজ আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) ড. খ. মহিদ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।


খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, নতুন ভোটার ৪৫ লাখ ৭১ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৫

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, নতুন ভোটার ৪৫ লাখ ৭১ হাজার

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। হালনাগাদ তালিকা প্রকাশের পর দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ জনে। তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ৪৫ লাখ ৭১ হাজার ২১৬ জন।

রোববার (১০ আগস্ট) ‘হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া’ প্রকাশ করা হয়। এদিন দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান।

সিনিয়র সচিব জানান, আজ সারা দেশের নির্বাচন অফিসগুলোতে একযোগে হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী এ বছরের ২ মার্চ ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল ইসি। তখন ভোটারের সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪ জন।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৪৫ লাখ ৭১ হাজার ২১৬ জনকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে মৃত ও কর্তনকৃত ভোটার হিসেবে ২১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯০ জনকে বিদ্যমান তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এই হিসাবে নতুন অন্তর্ভুক্তি ও বাদ দেওয়া মিলিয়ে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ জনে।

সচিব বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারাও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। নবীন ভোটারদের এক বছর অপেক্ষা না করানোর জন্য নতুন আইনে এই সুযোগ রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ বছর ইসি মোট তিন দফায় ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে— ২ মার্চ, ৩১ আগস্ট এবং ৩১ অক্টোবর। শেষ দফার তালিকা প্রকাশের পর চূড়ান্ত ভোটারের সংখ্যা জানা যাবে।

কারও তথ্যে ভুল থাকলে সংশোধনের জন্য ১২ দিনের সুযোগ থাকবে। যোগ্য ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্তি, মৃত্যুজনিত বা অন্তর্ভুক্তি হওয়ার অযোগ্য ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া, ভোটার স্থানান্তর এবং কোনো ত্রুটি সংশোধনের জন্য ২১ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

২৪ আগস্টের মধ্যে এসব আবেদন নিষ্পত্তি হবে। এরপর অন্যান্য কাজ শেষে চলতি মাসের ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।


১৫টি কবরের ওপরের মাটি সরানো, ভেতরের দৃশ্যে এলাকায় তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ মার্চ, ২০২৪

১৫টি কবরের ওপরের মাটি সরানো, ভেতরের দৃশ্যে এলাকায় তোলপাড়

পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুরে কবরস্থান থেকে ১৫টি কঙ্কালের হদিস মিলছে না। স্থানীয়দের ধারণা কঙ্কাল চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (১৮ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার খাস আমিনপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে এই ঘটনা ঘটে। 

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকালে বিষয়টি স্থানীয়রা টের পান। এরপর থেকেই কবরস্থানে স্বজনেরা ভিড় করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

চুরি হওয়া এক লাশের স্বজন মাসুদ রানা বলেন, এটা ভাবতেই অবাক লাগছে। মহাসড়কের পাশে এই কবরস্থান থেকে কঙ্কাল চুরি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। আমাদের দাবি, পুলিশ দ্রুত এই ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

আরেক স্বজন জাহিদ হাসান বলেন, এতদিন আমরা দেখে আসছি আমাদের দেশে বেঁচে থাকা অবস্থায় মানুষের নিরাপত্তা নেই। এখন দেখছি মরে গেলেও মানুষের লাশেরও নিরাপত্তা নেই।

আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, সকালে স্থানীয়রা কবরস্থানে গেলে এ ঘটনা জানতে পারে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

ওসি আরও বলেন, কবরস্থানের কবরগুলোর উপরের মাটি সরানো। সেখানে কোনো মরদেহ নেই। কিন্তু চুরি হয়েছে কিনা এটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিভিন্ন সময়ে কঙ্কালগুলো হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


ইসলামী ব্যাংকের ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাতে এস আলমের ছেলেসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪

ইসলামী ব্যাংকের ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাতে এস আলমের ছেলেসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নিয়ে ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আহসানুল আলমসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আহসানুল বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের (এস আলম) ছেলে। এস আলমের দুই ভাইকেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।

ত ১৯ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন সংস্থাটির উপপরিচালক ইয়াছির আরাফাত। মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে মুরাদ এন্টারপ্রাইজের নামে ১ হাজার ৯২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন ঢাকার সেগুনবাগিচায় সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন পরিচালনা পরিষদের ১৪ জন ও এস আলমের দুই ভাইসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে।

আহসানুল আলম ছাড়াও এ মামলায় আসামির তালিকায় আছেন এস আলমের ভাই সোনালী ট্রেডার্সের সহিদুল আলম ও গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাশেদুল আলম। আসামির তালিকায় আরও আছেন ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান এমডি মোহাম্মদ মনিরুল মাওলা, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) রফিকুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক ও ইসি কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তানভীর আহমদ, সাবেক পরিচালক মো. ফসিউল আলম, কাজী শহীদুল আলম, মো. সিরাজুল করিম, জামাল মোস্তফা চৌধুরী, মো. জয়নাল আবেদীন, খুরশীদ উল আলম, মো. কামরুল হাসান, সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ সালেহ জহুর ও মোহাম্মদ সোলায়মান এবং সাবেক নমিনি পরিচালক সৈয়দ আবু আসাদ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২১ সালের নভেম্বরে এস আলম-সংশ্লিষ্ট মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজের মালিক গোলাম সরওয়ার চৌধুরী চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংকের চাক্তাই শাখায় ঋণের জন্য আবেদন করেন। পরের মাসে শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা অনুমোদন করেন। মিথ্যা তথ্যের ওপর জাল কাগজে এ ঋণের জন্য আবেদন করে মুরাদ এন্টারপ্রাইজ। পরে এ ঋণ অনুমোদন করা হয়। কোনো প্রকার যাচাই না করেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাংকের কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে এ ঋণ অনুমোদন করেন। প্রথমে ৮৯০ কোটি টাকা ঋণের জন্য আবেদন করা হলেও পরে সেটা বৃদ্ধি করা হয়। গত বছরের মার্চ মাসে এ ঋণ জালিয়াতি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মুরাদ এন্টারপ্রাইজ যে বিনিয়োগের কথা বলে ঋণ নিয়েছিল, পণ্য না কিনে তা স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে কেউ কেউ মূলত এস আলম গ্রুপে পণ্য সরবরাহ করতেন। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তাঁরা ঋণের টাকা স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করে মানি লন্ডারিং আইনে অপরাধ করেছেন।

গত ২১ আগস্ট এস আলম গ্রুপের মালিক এস আলমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগের তদন্ত শুরু করে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবলী ও খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নিয়েছে এস আলম গ্রুপ। এই দুটি ঋণের বিষয়টিও অনুসন্ধান করছে দুদক।

এস আলম পরিবারের ১২৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

এস আলম পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ১২৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহীম মিয়া আজ এ আদেশ দেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর আহমেদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এস আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অনুসন্ধান পর্যায়ে ১২৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আবেদন করা হয়েছে। শুনানি নিয়ে আদালত সাইফুল আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ১২৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের এ আবেদন করেন দুদকের উপপরিচালক মো. আবু সাঈদ। দুদকের পক্ষ থেকে গতকাল লিখিতভাবে আদালতকে বলা হয়, এস আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুর, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সাইপ্রাস ও অন্যান্য দেশে এক বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযোগ অনুসন্ধানের সময় মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ১২৫টি ব্যাংক হিসাবে ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৪৯ হাজার ১৯১ টাকা জমা রয়েছে।

এর আগে ৭ অক্টোবর এস আলম তাঁর স্ত্রী, সন্তান, ভাইসহ ১৩ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী এস আলম। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক দখল করে নেয়। এরপর আরও একাধিক ব্যাংক, বিমা দখল করে নামে-বেনামে ব্যাংকগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নেয় গ্রুপটি। পাশাপাশি গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামেও ঋণ অনুমোদন করা হয়।

এস আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল ন্যাশনাল ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব ব্যাংককে এস আলম মুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সহায়তায় কয়েকটি ব্যাংক দখল করার পর ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তাঁর সহযোগীরা ‘অন্তত’ ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি ডলার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ‘বের করে নিয়েছেন’।