শেয়ার বাজার

পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোট স্থগিত, ইসির পরিপত্র জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোট স্থগিত, ইসির পরিপত্র জারি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা জটিলতার কারণে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ইসি এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে। এতে স্বাক্ষর করেন সংস্থার উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।

ইসি জানায়, জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকা ৬৮ (পাবনা-১) ও ৬৯ (পাবনা-২)-এর সীমানা সংক্রান্ত মামলায় আপিল বিভাগ গত ৫ জানুয়ারি আদেশ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দুই নির্বাচনি এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভোট স্থগিত রাখার জন্য ইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ইসি চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। সেখানে সাঁথিয়া উপজেলার পুরো অংশ নিয়ে পাবনা-১ আসন ও সুজানগর ও বেড়া উপজেলার সমন্বয়ে পাবনা-২ আসন চূড়ান্ত করা হয়।

ইসির ওই গেজেটের এই দুটি আসনসংক্রান্ত অংশের বৈধতা নিয়ে বেড়া উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে গত ১৮ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেন।

তাতে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সংক্রান্ত ইসির গেজেটের অংশটুকু আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে পাবনার সংসদীয় আসন দুটি আগের মতো পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর গত ২৪ ডিসেম্বর পাবনার আসন দুটি নিয়ে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইসি। তাতে আগের মতোই পুরো সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভা ও বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন (হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা ইউনিয়ন) নিয়ে পাবনা-১ আসন গঠিত হয়। এছাড়া পাবনা-২ আসনও বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন এবং পুরো সুজানগর উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়।

অন্যদিকে, হাইকোর্টের এ রায় স্থগিত চেয়ে পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (নাজিব মোমেন) ও নির্বাচন কমিশন পৃথক আবেদন করে। আবেদন দুটি গত ২৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন আদালত আবেদন দুটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

এরপর ৫ জানুয়ারি এই দুই আসনের আগের সীমানা পুনর্বহাল করে ইসির ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির অংশটুকু স্থগিত করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল সন্তানের পিতৃপরিচয়
ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয় ইমামকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ মে, ২০২৬

ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয় ইমামকে
সীমান্ত কণ্ঠ ডেস্ক:: অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন ফেনীর পরশুরামে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মসজিদের ইমাম মোজাফফর। একই সঙ্গে তদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্টে বেরিয়ে এসেছে কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের পিতৃপরিচয়। পরিকল্পিতভাবে ওই ইমামকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, জেলার পরশুরাম উপজেলার এক কিশোরী (১৪) ২০১৯ সালে স্থানীয় মক্তবে পড়াশোনা শেষ করে। এর পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সন্তান প্রসব করলে পরিবারের পক্ষ থেকে ওই মক্তবের শিক্ষক ও স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদের (২৫) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে পরশুরাম মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। 

এদিকে, ওই বছরের ২৬ নভেম্বর অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে অভিযুক্ত মোজাফফর আহমদ ফেনীর আদালতে পাল্টা মামলা করতে গেলে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পরে ১ মাস ২ দিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর।

পরবর্তীতে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত মোজাফফর আহমদ ও কিশোরীর সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব ঢাকার মালিবাগে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্যাজাইনাল সোয়াবে পুরুষের বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ফলে মোজাফফরের ডিএনএর সঙ্গে তুলনামূলক মতামত দেয়া সম্ভব হয়নি।

এরপর কিশোরী ও তার ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যার জৈবিক পিতা শনাক্তে নতুন করে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করে পুলিশ। তদন্ত চলাকালে পুলিশ কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে সে স্বীকার করে, তার আপন বড় ভাই (২২) দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। বিষয়টি আড়াল করতে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোজাফফরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন। পরে ২০২৫ সালের ১৯ মে ওই কিশোরীর অভিযুক্ত ভাইকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরদিন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে আপন বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন তিনি।

আদালতের নির্দেশে একই বছরের ৪ আগস্ট কিশোরী, তার শিশু কন্যা এবং বড় ভাইয়ের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট প্রকাশিত ডিএনএ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়, কিশোরীর অভিযুক্ত ভাইয়ের সঙ্গে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কারাভোগ করা মোজাফফর আহমদ ওই শিশুর জৈবিক পিতা নন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে আনিত ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(১) ধারার মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অপরদিকে, ওই কিশোরীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে একই ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, ডিএনএ পরীক্ষায় প্রকৃত সত্য সামনে আসার পর ওই ইমামের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। তথ্য চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর


বনশ্রীতে স্কুলছাত্রীকে হত্যার ঘটনায় হোটেলকর্মী মিলন গ্রেফতার

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

বনশ্রীতে স্কুলছাত্রীকে হত্যার ঘটনায় হোটেলকর্মী মিলন গ্রেফতার

রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর একটি বাসা থেকে ফাতেমা আক্তার নিলি নামের এক স্কুলছাত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। তার নাম মিলন। পেশায় মিলন একজন হোটেলকর্মী।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দক্ষিণ বনশ্রীর নিজ বাসায় খুন হওয়া স্কুলছাত্রীর চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার সন্দেহজনক আসামি হোটেলকর্মী মিলনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

জানা গেছে, গ্রেফতার মিলন নিহত নিলির বাবার রেস্তোরাঁয় কাজ করেন। নিলি বাসায় একা ছিল সেই সুযোগে মিলন তাকে গলাকেটে হত্যা করে। তবে কি কারণে হত্যা সে বিষয়ে এখনও জানাতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

এ হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তিদের আসামি করে গত শনিবার রাতে একটি মামলা হয়।

গত শনিবার বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের প্রীতম ভিল থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছিলেন খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

খিলগাঁও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফাতেমা আক্তার (১৭) বনশ্রীর রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মা-বাবা, ভাই ও বোনের সঙ্গে ওই বাসায় থাকতো নিলি। তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাইয়ে। তার বাবা সজীব মিয়া বনশ্রীতে একটি রেস্তোরাঁ চালান। দুই দিন আগে তার মা-বাবা ও ভাই হবিগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে যান। ঢাকায় সে ও তার বোন ছিল। বিকেলে ফাতেমার বোন জিমে যান। ফিরে এসে ফাতেমার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান।


কেশরহাটে অনুমোদনহীন সমিতির উচ্চ সুদে সর্বশান্ত অনেক পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ মার্চ, ২০২৪

কেশরহাটে অনুমোদনহীন সমিতির উচ্চ সুদে সর্বশান্ত অনেক পরিবার

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে অনুমোদনহীন ব্যবসায়িক সমিতির আড়ালে চলছে উচ্চ হারে সুদের রমরমা ব্যবসা। সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অসহায় মানুষের সাথে প্রতারণা করে চালানো হচ্ছে এই সুদের কারবার। বড় অংকের সুদের কারণে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায়ের দিনমজুরেরা হচ্ছেন সর্বশান্ত ।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, কেশরহাট পৌরসভার গোপইল গ্রামের সাজ্জাদ মাষ্টারের ছেলে রাজু। একসময় ছিলেন মুদি দোকানদার। মুদি ব্যবসার আড়ালে তিনি ফেন্সিডিলের ব্যবসাও করতেন এবং নকল সিগারেট ও ফেন্সিডিল’সহ বেশ কয়েকবার আটকও হয়েছিলেন মোহনপুর থানায়।

এরপর তিনি কোন সনদপত্র না নিয়েই কেশরহাটে ‘সাফল্য সমবায় সমিতি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন। সুদ বইয়ের মাধ্যমে রাজু তার অবৈধ দাদন ব্যবসাকে বৈধ দেখিয়ে মোহনপুর-কেশরহাটের সাধারন মানুষদের প্রতারিত করছেন। সাধারণ মানুষ প্রতারিত হলেও দিন দিন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছে রাজু।

অতিরিক্ত সুদ আদায় এবং সরকারি আইন ভঙ্গ করলেও স্থানীয় সমবায় অফিস কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় গ্রাহকরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত সুদ প্রদানের মাধ্যমে সর্বশান্ত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সুদ কারবারিরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেশরহাট বাজার সংলগ্ন মসজিদ মার্কেটে নামবিহীন অফিস খুলে সুদের ব্যবসা চালাচ্ছে এই ‘সাফল্য সমবায় সমিতি’।

আরোও জানা যায়, সাফল্য সমবায় সমিতির পরিচালক রাজু মোড়া অংকের লাভে ও ব্যাংক চেকের বিনিময়ে সাধারণ মানুষের কাছে টাকা দেন। সুদের ব্যবসা করে এখন সে কোটিপতি। প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বিভিন্ন সাধারণ মানুষের কাছে সুদে দেওয়া রয়েছে তার।

ঋণ প্রদানে সমবায় সমিতির পরিচালক রাজু সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্প ও ব্ল্যাক চেক বইয়ের পাতা এবং স্বাক্ষর করা ফাঁকা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প রেখে দিচ্ছেন টাকা দেন তিনি। টাকা পরিশোধ করার পরও চেক বইয়ের পাতায় নিজেদের ইচ্ছা মত টাকা বসিয়ে আদালতে মামলা করে গ্রাহক হয়রানির বহু অভিযোগ রয়েছে এ সমিতির বিরুদ্ধে।

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে পরিচালক রাজু দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ সমবায় অধিদপ্তরের সরকারি পরিপত্রের তোয়াক্কা না করেই সদস্যদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুদ আদায়, সাদা চেক ও স্ট্যাম্প এর বিপরীতে ঋণ প্রদান করেন, এমনই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

তথ্যনুসন্ধানে আরো জানা যায়, মোহনপুর উপজেলার সমবায় অফিসের অধীনে নামে বেনামে অনেক সমিতি রয়েছে, এছাড়া সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত আরও শতাধীক সমিতি রয়েছে। যাদের অধিকাংশই চড়া সুদে ঋণ বিতরণ করে থাকেন। এর মধ্যে অন্যতম কেশরহাটে রাজুর ‘সাফল্য সমবায় সমিতি’ লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান। সমবায় সমিতি হিসেবে রেজিস্ট্রেশন না নিয়েও সমবায় অধিদপ্তরের কোন আইন কানুনই মানছে না প্রতিষ্ঠানটি।

কেশরহাট বাজারে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ‘সাফল্য সমবায় সমিতি’এর পরিচালক রাজু লাভের ওপর এককালীন টাকা দিয়ে মাত্র এক মাস বা তিন মাস মেয়াদে ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য করেন । এতে ঋণ নিয়ে চরম বিপদে পড়েছেন সাধারণ অসহায় মানুষ।

আরোও এক ব্যবসায়ী কান্নাস্বরে জানান, রাজুর কাছে সুদে ৪ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা তাকে লাভ দিতেন। টাকা না দেওয়ার কারনে ওই সুদ ব্যবসায়ী তাকে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী এখন অসহায় অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। ব্যবসা বন্ধ করে নিজের জমি জমা বিক্রি করে ওই সুদ ব্যবসায়ীর টাকা দিতেও হিমসিম খেতে হচ্ছে তাকে।

শুধু তাই নই, রাজশাহীর সাহেব বাজারের আরোও এক ব্যবসায়ীর সাথেও প্রতারনা করে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা চিট করে নিয়েছে এই সাফল্য সমবায় সমিতির পরিচালক রাজু। এরপর সেই ভুক্তভোগী কেশরহাট পৌরসভায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তা আনিছা দেলোয়ারা আঞ্জু জানান, কেশরহাটে ‘সাফল্য সমবায় সমিতির’ কোন নিবন্ধন নাই। যেহেতু নিবন্ধন নাই সেহেতু কেউ যদি তার কাছে প্রতারিত হয় তাহলে এর জন্য আমরা দায়ী নই।

মোহনপুর উপজেলার ইউএনও আয়েশা সিদ্দিকা জানান, আমার এ বিষয়ে জানা ছিলোনা। বিস্তারিত আমি খোঁজ নিয়ে তদন্ত করে দেখবো এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হরিদাস মন্ডল জানান,এ বিষয়ে লিখিত কোন অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কেশরহাট পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ জানান, সাফল্য সমবায় সমিতির কোন ট্রেড সনদপত্র নেই। এ বিষয়ে আমি যতটুকু জানি রাজু একজন চিট। তার নামে অনেক অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে একজন ব্যক্তির মোটা অংকের টাকা প্রতারনা করে নেওয়ার লিখিত অভিযোগ পাওয়ায় তাকে আমি ডেকে এনে সময় সাপেক্ষে

পৌরসভাতেই মিমাংসা করে দেই। এই রাজুর খপ্পরে পরে যেন আর কেউ প্রতারিত না হয় সেইদিকে আমি খেয়াল রাখব।

এ বিষয়ে সাফল্য সমবায় সমিতির পরিচালক রাজুর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।