পুষ্টিগুণে জাতীয় ফল কাঁঠাল
# বকুল হাসান খাঁন #
ফলের মওসুম এখন। বাজারে গেলেই দেখা যায় কত কি ফল। আম, লিচু, জাম, কাঁঠাল, জামরুলসহ আরও অনেক কিছু। এসবের মধ্যে অন্যতম ও অতি পরিচিত এবং আমাদের জাতীয় ফল হল কাঁঠাল। এর ইংরেজী নাম জ্যাকফ্রুট এবং আটোকারপাস হেটারোফাইলাস হল কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নাম। কাঁঠালের আদি নিবাস হল ভারতবর্ষ। আসামে সবচে বেশি কাঁঠাল উৎপাদন হয়। এছাড়া বার্মা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কাতেও প্রচুর পরিমাণে কাঁঠাল জন্মায়। এখন বাংলাদেশেও ব্যাপকহারে ফলন হচ্ছে। কাঁঠাল আটিসিক্লোরি বিভাগের মোরেসী পরিবারের গাছ। মোরেসী গাছের মধ্যেই কেবল দুধের মতো আঠা দেখা যায়। এ পরিবারেতে অনেকগুলো বর্ণ বা গন্ধ আছে। এদের মধ্যে আর্টোকারপাস উলেখযোগ্য। আর্টোকার পাসগণে প্রায় ৪৪টি প্রজাতি রয়েছে। সেই থেকেই “আর্টেপাকারপাস হেটারোফাইলস” কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নামে রূপান্তরিত হয়েছে। কাঁঠালের বিভিন্ন জাতের মধ্যে উন্নত জাত হল সিন্দহল ও সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুর জলদি জাত, ফল ছোট হয়। রুদ্রাক্ষজাত অনুন্নত। ফল ছোট ও কাঁটা হয়। একটা রসাজাত রয়েছে। তা গলগলে রসযুক্ত। খুব মিষ্টি ও সুগন্ধযুক্ত। এই জাতটিই পশ্চিমবঙ্গে চাষ করা হয়। অন্য জাতটি হল খাজা এদের কোয়া শক্ত। রস কম হয়, মিষ্টি কম, এই জাত দক্ষিণ ভারতে বেশি দেখা যায়। এদের কোয়ার রঙ হালকা পীত। ফল পাকা অবস্থায় বেশি দিন রাখা হয়। এ ছাড়া কিছু বারমাসী কাঁঠাল শুধু স্বাধে-গন্ধে অতুলনীয় ফল নয়, পুষ্টি গুণে ও অর্থকারী হিসেবেও সকলের কাছে খুবই প্রিয় বটে। এ ফল কাঁচা ও পাকা উভয়ভাবেই খাওয়া যায়। কাঁচা কাঁঠাল সিদ্ধ করে তা তরকারী হিসেবে খেয়ে থাকে অনেকে। তবে কাঁঠাল পাকা অবস্থাতেই বেশি খেয়ে থাকে। কাঁঠালের পুষ্টি উপাদান বিশ্লেষণ করে দেখা যায় প্রায় সব ধরনের পুষ্টিই এ ফলে রয়েছে। খাদ্য উপাদানে পাকা কাঁঠালে জলীয় অংশ ৭৭.২%, শর্করা ১৮.৯%, প্রোটিন ১.৯%, আঁশ ১.১%, খনিজ ০.৮% এবং øেহ ০.১% পুষ্টি রয়েছে। এছাড়া খনিজের মধ্যে ক্যালসিয়াম রয়েছে ০.০২%, ফসফরাস ০.০৩% এবং লৌহ ০.৫%। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে রয়েছে ৪৭০০ মাইক্রো গ্রাম ক্যারোটিন অর্থাৎ ৭৮৩ মাইক্রোগ্রাম রেটিনল বা ভিটামিন এ, ১০০ গ্রাম কাঁঠালে ৮৮ কিলো ক্যালরি শক্তি রয়েছে। চর্বি ০.১%, ১.৮% গ্রাম আমিষ, ২১ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে। এছাড়া ভিটামিন বি ৩০ মিঃ গ্রাম ও ভিটামিন এ আই ইউ ৫৪০ গ্রাম, ০.৪ মিলিগ্রাম নিকোটিক এসিড রয়েছে। অন্যদিকে, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা কাঁঠালে রয়েছে রয়েছে খাদ্যশক্তি ৫১ কিলো ক্যালরী, শর্করা ৯.৫ গ্রাম, আমিষ ২.৬ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪ মিলি গ্রাম, ভিটামিন বি ১০.৫ মিলিগ্রাম ও ভিটামিন বি২ ০.০৪ মিলি গ্রাম। কাঁঠালের কোনও অংশই ফেলনা নয়। এর কোষ, বীচি ছাড়া ভেতরের মোথা, কাঁঠালের ছোলা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। কাঁঠালের বীচি আমাদের নিকট অত্যন্ত প্রিয় এক খাদ্য। এ বীচি সবজী হিসাবে সিদ্ধ বা ভেজে ভর্তা করে অথবা শুধু ভেজে বাদামের মতো খাওয়া হয়। তাছাড়া একটি তরকারি হিসেবে কুবই স্বাদ ও প্রিয়। এটি খুবই পুষ্টিকর ও মুখরোচক খাদ্য। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালের বীচিতে ক্যালরি ১৩০ গ্রাম, আমিষ ৬.৬ গ্রাম, শর্করা ২৫.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলি গ্রাম, লৌহ ১.৫ মিলি গ্রাম ও ভিটামিন বি-২ ০.২৫ মিলি গ্রাম পুষ্টি রয়েছে। মোট কথা, আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠালে এতই পুষ্টি যে, একেবারে পুষ্টিগুণে ঠাঁই ঠাঁই করছে।








